রাজধানীর সবজি বাজারের আকাশচুম্বি দাম এখনও অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবারে যে বাড়তি দাম ছিল তা এখনও রয়েছে। প্রতিটি সবজি কেজি প্রতি ১০ টাকা থেকে ৪০ টাকা বেড়েছিল শনিবার পর্যন্ত। যে পটল ৮০ টাকা দরে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছিল সেটি এখন ১০০ থেকে ১২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও অন্যান্য সবজির দামও বেড়েছে। একইসঙ্গে বেড়েছে মাছের দামও। তবে মুরগির দাম স্থিতিশিল রয়েছে। বাজার করতে আসা ক্রেতারা বলছেন, ১-২ দিনের ব্যবধানে সবজির বাজারে এ রকম দাম বেড়ে গেলো। এটা অবাক করা বিষয়। তারা ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর মেরাদিয়া, রামপুরা, খিলগাঁওসহ আশপাশের বাজার ঘুরে এমন চিত্র লক্ষ্য করা গেছে।
মেরাদিয়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, পটল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১২০ টাকা। এই পটল বুধবার ও বৃহস্পতিবার ৮০ টাকা কেজি ছিল। আলু প্রকার ভেদে প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, পটল, করলা ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ১২০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়াও ঝিঙ্গা প্রতি কেজি ১২০ টাকা, চিচিঙ্গা ১০০ টাকা, সিম ২২০-২৫০ টাকা, কচু ৮০ টাকা, পেপে ৩৫-৪০টাকা, ভেন্ডি ১০০ টাকা এবং কাঁচা মরিজ ২০০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বেগুন ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ২৫০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা যায়।
তাজা রুই যেটা ৩৬০ টাকা ছিল, সেটিও ৩৮০ থেকে শুরু করে ৪২০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও অন্যান্য মাছের দামও আকাশ ছোঁয়। এছাড়াও ডিম প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ টাকা।
মাংসের মধ্যে ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা কেজি, কক ৩৩০ এবং লেয়ার ৩৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শুধু মুরগির দামের কোনও পরিবর্তন হয়নি। পরিবর্তনের হয়নি গরুর মাংসের দাম। প্রতি কেজি ৮২০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে বাজার করতে আসা ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, আর কত দাম বাড়বে। শীতকাল চলে আসছে। শীতের কিছু কিছু সবজিও বাজারে। কিন্তু কোনও জিনিসের দাম কমতির দিকে নই।
ক্রেতা জসিম উদ্দিন বলেন, একবার দাম বাড়লে আর যে কমে না, এটি বার বার প্রমাণিত। এই যে পটল ১০০ টাকার ওপরে ওঠে গেলো, এটি আবার কমতে কতদিন লাগে দেখেন। আমাদের মতো নিম্নবিত্ত মানুষরা এখন পরিপূর্ণভাবে কিনতে পারি না। অল্প অল্প কিনে কোনোমতে জীবন চালাচ্ছি।
বাজারে আসা ক্রেতা আরিফুর রহমান বলেন, গতকাল যে সবজির দাম ছিল আজকেও তাই দেখছি। দাম বাড়লে যে কমবে সেটির কোনও অবস্থা নেই।
তিনি বলেন, আমাদের মতো পরিবারগুলোর অবস্থা এখন খুবই কঠিন। ডিম যে ১৫০ টাকার ওপরে উঠলো সেটি কিন্তু আজও কমেনি। এখন ডিম ১৫৫ টাকা ডজন কিনতে হচ্ছে।
কানিজ ফাতেমা নামের আরেক ক্রেতা বলেন, বাজারে কোন জিনিসটা আমাদের সাধ্যের মধ্যে? আমরা কি পরিপূর্ণভাবে কিনতে পারি। বাসায় রান্না করা সিলিন্ডার সেটির দামও আকাশছোঁয়া। এছাড়াও সবজি, মাছ, মাংস কোনটা মানুষ সহজেই কিনতে পারছে? মানুষ হাঁসফাঁস করছে। কোনটা রেখে কোনটা কিনি। এই অবস্থা আমাদের। সব জিনিসের দাম বাড়তি। আমরা যাব কোথায়?