বাজারে আবারও সবজির দাম বেড়েছে। কেজি প্রতি ১০- ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দেখা যায়। এছাড়া ডিমের দামও ডজন প্রতি ৫ টাকা বেড়ে গেছে।
বিক্রেতারা বলছেন, সবজির দাম প্রতিদিনই উঠানামা করে। সকালে সবজির বাড়তির দিকে থাকলেও বিকালে কমতির দিকে থাকে। কারণ সব ব্যবসায়ী প্রতিদিনের সবজি প্রতিদিন বিক্রির চেষ্টায় থাকে। এ কারণে সকালে টাটকা সবজির এক দাম থাকলেও বিকালে বিক্রির আশায় কিছুটা কম দামে ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
ক্রেতারা বলছেন, কম বেশি করে নিয়ে অবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার চেষ্টা করছেন।
রবিবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সবজিগুলোর মধ্যে পটল প্রতি কেজি ১২০, চিচিঙ্গা ৭০, ঝিঙা ৮০, বেগুন প্রকার ভেদে ৮০, ১০০ ও ১৪০, করলা ১০০, কাকরল ১০০, ঢেঁড়স ১০০, টমেটো ১৬০, সিম ১৬০, মিষ্টি কুমড়া ৬০, বরবটি ১০০ এবং কাচা মরিজ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া চাল কুমড়া (জালি) ৫০, লাউ ৭০ টাকা দরে প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি প্রকার ভেদে ৬০ টাকা থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি। ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা প্রতি কেজি, কক ৩২০-৩৩০ এবং দেশি মুরগি ৬৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির ডিম ১৫৫-১৬০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর মেরাদিয়ার সবজি বিক্রেতা আশরাফ হোসেন বলেন, সবজির দাম প্রতিদিন ওঠা-নামা করে। সবজির দাম আজকে বাড়তির দিকে। আমরা কাওরানবাজার থেকে বেশি দামে কিনেছি। এ কারণে কেজি প্রতি ১০-২০ টাকা দেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, পটল ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি ছিল, কিন্তু আজ আমাদের ১২০ টাকা বিক্রি করতে হচ্ছে। এছাড়াও অন্যান্য সবজির দামও কেজি প্রতি কিছুটা বেড়েছে।
সবজি ব্যবসায়ী সুমন বলেন, সবজির দাম কখন বাড়ে, আর কখন কমে এটা বলা মুশকিল। এটা সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। তাছাড়া এখন ট্রাক-পিকআপ ভাড়াও বেড়েছে। সুতরাং সবজির দাম যে একেবারে কমবে এটা ভাবা যাবে না। সরবরাহ বেশি থাকলে কিছুটা কমে। আবার সরবরাহ কমলে তখন আবারও বেড়ে যায়।
সুমন বলেন, সকালে একদাম থাকে, বিকালে আরেক দাম। সকালে মানেুষের চাহিদা থাকে। টাটকা সবজির কিনতে আসে তখন একদাম। আর বিকালে সব সবজি বিক্রির করার টান থাকে বিক্রেতাদের, তখন কম দাম হলেও বিক্রি করে দেওয়া হয়।
এদিকে বাজার করতে আসা গৃহিনী আফরোজা বেগম বলেন, পটল শুক্রবারও ৮০-১০০ টাকা ছিল। আজকে ১২০ টাকা। এছাড়াও অন্যান্য সবজিও দামও চড়া। আসলে কখন কীভাবে দাম বাড়ে এটা বলা মুশকিল।
তিনি বলেন, ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আসার পর সেই যে ২০০ টাকায় আসলো, এখন আর কমে না। অথচ বাজারে কাঁচা মরিচের সংকট নেই।
তিনি বলেন, ‘আমরা নিম্ন আয়ের মানুষ, অল্প কিনেই সন্তুষ্টি।’ তিনি আরও বলেন, আমরা তো সপ্তাহে মাছ মুরগির বাজারে যেতে পারি না। সেখানেও এক প্রকার আগুন।
ক্রেতা জসিম উদ্দিন বলেন, মাছ মুরগি এখন আমাদের জন্য বিলাসিতা। এখন ১০০০ টাকা নিয়ে বাজার করতে আসলে ৪ জনের সংসারে কী কিনবেন, আর কী রাখবেন। মুরগি কিনতে গেলে ব্রয়লার ২ কেজি কিনলেও ৪০০ টাকা। চাল সর্বনিম্ন ৬৫ টাকা কেজি। এছাড়া সবজি তো আছেই। তাহলে ১ হাজার টাকা বাজারে নিয়ে আসলে ৪ জনের সংসারে আপনি কী কিনবেন? মাছ, মাংস কি কেনা যাবে?
তিনি বলেন, ছেলে-মেয়ে পোলাও খেতে চাইলেও আমরা টিকমতো খাওয়াতে পারি না। কারণ পোলাওয়ের চাল এখন প্রায় ২৫০ টাকা কেজি। তার সঙ্গে মুরগি বা গরুর মাংস। আমরা কীভাবে পেরে উঠবো। এগুলো আসলে আমাদের মতো মানুষের জন্য না।
মজিবর রহমান নামের আরেক ক্রেতা বলেন, আমরা এখন আল্লাহর ওয়াস্তে চলি। আমাদের এখন আর শখ-শোভা নেই। যেভাবে পারছি, চলছি। এমন দ্রব্য মূল্যের বাজারে কীভাবে ভালো থাকি। চাল, চিনি, সাবান থেকে শুরু করে সবজির কোনোটির দাম কম? সবগুলোরই এখন উচ্চমূল্য। এ কারণে আমরা আর এখন কোনও সখ করি না। আমাদের শখ মারা গেছে।’