দিলীপ আগরওয়ালার ঘটনায় পুরো জুয়েলারি খাতকে দায়ী করা ঠিক নয়: বাজুস

ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সাবেক সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেফতারের ঘটনায় পুরো জুয়েলারি খাতকে নেতিবাচক প্রচারণার আওতায় না আনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। বাজুস বলেছে, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের কারণে দেশের সামগ্রিক জুয়েলারি খাতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা সমীচীন নয়।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাজুসের সভাপতি এনামুল হক খান এ আহ্বান জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাজুস সবসময় অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে এবং কোনও অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না। তবে দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে ঘিরে সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে দেশের সামগ্রিক জুয়েলারি খাতের ভাবমূর্তি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করে সংগঠনটি।

বাজুসের দাবি, দেশের অর্থনীতি, রাজস্ব আহরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে জুয়েলারি খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এ খাতের সঙ্গে প্রায় ৪০ হাজার ব্যবসায়ী এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৮ লাখ মানুষ সম্পৃক্ত।

সংগঠনটি জানায়, দেশের জুয়েলারি খাতকে সুশৃঙ্খল, আধুনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। স্বর্ণ নীতিমালা ২০১৮ (সংশোধিত ২০২১) আধুনিকায়ন, সংশোধন ও সংযোজনের লক্ষ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দফতরের সঙ্গে গত আট মাস ধরে সমন্বয় করে কাজ করছে বাজুস।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জুয়েলারি খাতের স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হলে বৈধ ব্যবসা সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আহরণের উদ্যোগও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় বাজারের একটি অংশ বিদেশমুখী হয়ে পড়তে পারে, যার ফলে বৈধ পথে দেশের অর্থ বিদেশে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মনে করে সংগঠনটি।

বাজুস বলেছে, কোনও ঘটনা বা অভিযোগের কারণে সম্ভাবনাময় একটি শিল্প খাতের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হোক, তা তারা চায় না।

ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের কর্মীদের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বহু মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকা জড়িত। কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের কারণে প্রতিষ্ঠানটির নিরপরাধ কর্মকর্তা-কর্মচারী, সংশ্লিষ্ট কর্মী ও তাঁদের পরিবারের জীবিকা যেন অযথা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

বাজুসের ভাষ্য, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন এবং সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের জুয়েলারি খাতের ইতিবাচক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা সম্ভব।

দেশের স্বর্ণ ও ডায়মন্ড শিল্পের বিকাশ, বৈধ ব্যবসার প্রসার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জাতীয় রাজস্ব বৃদ্ধির স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক ভূমিকা প্রত্যাশা করেছে সংগঠনটি।