আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম, ভরিতে ছাড়ালো ২ লাখ ২৯ হাজার টাকা

দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। এবার ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ হাজার ৬৯০ টাকা। সে হিসাবে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা। বুধবারের তুলনায় প্রতি ভরিতে দাম বাড়ছে প্রায় ৭ হাজার ২২৫ টাকা। 

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের এক সভায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। 

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। 

নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম ১৮ হাজার ৮০৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম ১৬ হাজার ১৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি গ্রাম দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ হাজার ১৯০ টাকা। 

এর আগে বুধবার (৪ নভেম্বর) ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৪০০ টাকার বেশি বাড়িয়েছিল বাজুস। সেদিন নির্ধারিত দাম ছিল ২ লাখ ২২ হাজার ৪৩৯ টাকা। নতুন সিদ্ধান্তে এক দিনের ব্যবধানে আবারও বড় অঙ্কের মূল্যবৃদ্ধি হলো। 

রুপার দামও বেড়েছে

স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও নির্ধারণ করেছে বাজুস। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রুপার দাম ৩০০ টাকা, ২১ ক্যারেটের ২৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ১৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। তবে বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় ক্রেতাদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। 

এ ছাড়া পুরোনো অলংকার বিনিময়ের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের দাম বাদ দিয়ে নির্ধারিত মূল্যের ওপর ১২ শতাংশ এবং পুরোনো স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। এসব ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না। 

পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে বাজুস। 

এ বছর স্বর্ণের দাম সমন্বয় ১৩২ বার

চলতি বছর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩২ বার। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, ৬৭ বার কমানো হয়েছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত ১৩১ বার দাম সমন্বয়ের পর বৃহস্পতিবারের নতুন সিদ্ধান্তে এ সংখ্যা আরও একবার বাড়ল।

অপরদিকে ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। ওই বছর ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

এ হিসাবে গত বছরের তুলনায় চলতি বছর স্বর্ণের বাজারে মূল্য সমন্বয়ের প্রবণতা অনেক বেশি। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দামের ওঠানামার প্রভাবে দেশের বাজারেও ঘন ঘন দাম পরিবর্তন করতে হচ্ছে।