মানিকগঞ্জে তরুণ উদ্যোক্তা বাছাই করবে বাংলাদেশ ব্যাংক, থাকছেন শীর্ষ ব্যবসায়ীরা

তৃণমূল পর্যায় থেকে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা খুঁজে বের করে অর্থায়নের আওতায় আনতে বিশেষ কর্মসূচি ‘উদ্যোগ’ বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ কর্মসূচির আওতায় মানিকগঞ্জ জেলার তরুণ উদ্যোক্তাদের চূড়ান্ত বাছাই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে রবিবার (৮ নভেম্বর)। তিন দিনব্যাপী এ কার্যক্রমে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা মূল্যায়নকারী হিসেবে অংশ নেবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ৮ থেকে ১০ নভেম্বর এ বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। এতে মানিকগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার আবেদনকারী তরুণ উদ্যোক্তাদের সাক্ষাৎকার ও ব্যবসায়িক উদ্যোগ মূল্যায়ন করে চূড়ান্তভাবে অর্থায়নের জন্য নির্বাচিত করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘উদ্যোগ’ (উপজেলা-ড্রিভেন ইয়ুথ অপরচুনিটি ফর গ্রোথ) কর্মসূচির লক্ষ্য হলো উপজেলা পর্যায় থেকে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা খুঁজে বের করা, তাদের ব্যবসায়িক উদ্যোগের বিকাশে সহায়তা দেওয়া এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে গতি আনা।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, সম্ভাবনা ও সক্ষমতা মূল্যায়নের পাশাপাশি তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে বাছাই কার্যক্রমে দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, করপোরেট ব্যক্তিত্ব ও উদ্যোক্তারা অংশ নেবেন।

এ কার্যক্রমে মূল্যায়নকারী হিসেবে থাকবেন এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারম্যান রুবানা হক, ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমান, বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাসের এজাজ বিজয়, অন্যরকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মাহমুদুল হাসান সোহাগ এবং পাঠাও লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম আহমেদ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে আটটি জেলায় উদ্যোক্তা অনুসন্ধান ও বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে মানিকগঞ্জের বাছাই পর্বকে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া পাওয়ার পর বর্তমানে দেশের বাকি ৫৬ জেলায়ও উদ্যোক্তা খোঁজা ও আবেদন গ্রহণ চলছে। ১ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ আবেদন কার্যক্রম চলবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যাশা, তৃণমূল পর্যায়ের সম্ভাবনাময় তরুণদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও বিশেষ অর্থায়নের ব্যবস্থা করা গেলে নতুন ব্যবসা গড়ে ওঠার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। এর মাধ্যমে দেশের উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে।