নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ভারতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর কথা ভাবছে বাংলাদেশ। এজন্য দু’দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার (২০ ডিসেম্বর) এ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ-ভারত জয়েন্ট ওয়াকিং গ্রুপের চতুর্থ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি) রহমত উল্লাহ মো. দস্তগীর এনডিসি। এসময় নবায়নযোগ্য জ্বালানির অভিজ্ঞতা বিনিময় ও ক্যাপাসিটি বিল্ডিংয়ের জন্য বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদলকে ভারতের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
বৈঠকে ভারতের সাপুরজি-পালনজি গ্রুপের বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের বর্তমান অবস্থা, কক্সবাজারে ১০০ মেগাওয়াট বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, সোলার রূফটপ ও সোলার পার্ক নিয়ে আলোচনা হয়। উভয়পক্ষ এক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে একমত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) ‘এনটিপিসি অ্যাজ অ্যা ফোর্স ইন ইন্ডিয়াস ইলেকট্রসিটি ট্রান্সমিশন’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বর্তমানে ভারতে সরকারি-বেসরকারি মিলে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ৩ লাখ ১৯ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে ভারতের বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ৫০ হাজার মেগাওয়াট। এর মধ্যে সাড়ে ১২ হাজার মেগাওয়াটের মতো সৌরবিদ্যুৎ। ২০২৭ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৬ লাখ ৫০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীতের লক্ষ্য হাতে নিয়েছে ভারত। এর মধ্যে ৩ লাখ ৭২ হাজার মেগাওয়াট বা ৫৭ শতাংশ উৎপাদন হবে নবায়নযোগ্য ও দূষণমুক্ত অজীবাশ্ম জ্বালানি থেকে।
এ বিষয়ে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহম্মাদ হোসেইন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিদ্যুতের বিষয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বেশ ভাল। বিদ্যুৎ আমদানির পাশাপাশি সৌর বিদ্যুৎ নিয়ে ভারতের সঙ্গে কাজ করতে চায় বাংলাদেশ। তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই। এজন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারত জয়েন্ট ওয়াকিং গ্রুপ কাজ শুরু করেছে।’
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে দুই দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ক্যাপাসিটি বিল্ডিং বিষয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে কাজগুলো কিভাবে করা যায় তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।