বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি, তদন্ত প্রতিবেদন আগামীকাল



বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিবড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি নিয়ে পেট্রোবাংলা গঠিত তদন্ত কমিটির আগামীকাল (বুধবার) প্রতিবেদন জমা দেবে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মো. ফায়জুল্লাহ এনডিসি বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে প্রতিবেদনের বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, মঙ্গলবার তদন্ত কমিটি দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি পরিদর্শনে যায়। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি এলাকা ঘুরে দেখেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। এ সময় তারা খনির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর খোঁজ-খবর নেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইন) প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান টেলিফোনে বলেন, ‘তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঢাকার পথে রয়েছেন।’ তদন্ত প্রতিবেদন কবে দেওয়া হবে জানতে চাইলে বলেন, ‘আমরা কাজ করছি। কাজ শেষ হলেই দেওয়া হবে।’ তদন্তে কী কী বিষয় উঠে এসেছে, জানতে চাইলে তিনি জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।
তবে তদন্ত কমিটি আগামীকাল তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মো. ফায়জুল্লাহ এনডিসি। তিনি বলেন, ‘তদন্ত কমিটি বুধবার সকালে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। আশা করি, একই দিন মন্ত্রণালয়ে তদন্ত রিপোর্টটি জমা দিতে পারবো।’
প্রসঙ্গত, গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এ দিন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু ছাড়াও জ্বালানি সবিচ ও পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান বলেন, ‘কমিটি গঠন করবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এখনও এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনও চিঠি আসেনি। যে নির্দেশনা দেওয়া হবে, পেট্রোবাংলা সেভাবেই কাজ করবে।’
এদিকে মঙ্গলবার সকালে দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল পেট্রোবাংলায় যায়। এ সময় পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান ও অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের দেড়ঘণ্টা আলোচনা হয়। এই আলোচনায় প্রতিনিধি দলটি কয়লা গায়েব হওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেন। এছাড়া কয়লার উৎপাদন মজুদ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে দুদকের প্রতিনিধি দল।
পেট্রোবাংলা থেকে বের হয়ে দুদকের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, ১৫ দিন পর তারা এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেবেন। দুদকের পরিচালক কাজী শফিকুল আলমের নেতৃত্বে অনুসন্ধান দল পেট্রোবাংলায় যায়। দুদক এ বিষয়ে ১৫ দিনের মধ্যে অনুসন্ধান প্রতিবেদন তৈরি করার পর মামলা করা হবে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত চলবে।
প্রসঙ্গত, ২০০৬ সাল থেকে বড়পুকুরিয়া খনি থেকে কয়লা তুলে কোল ইয়ার্ডে জমা রাখা হচ্ছিল। কিন্তু বিক্রির পর বছরে কতটুকু কয়লা অবশিষ্ট থাকলে তা কখনও পরিমাপ করা হয়নি। এখন কাগজে কলমে অবিক্রিত একলাখ ৪০ হাজার টন কয়লা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কয়লা পাওয়া গেছে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টন। অর্থাৎ একলাখ ৩০ হাজার টনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে বড়পুকুরিয়ায়।