কয়লা আমদানির জন্য সম্ভাব্য দেশ নির্বাচনের উদ্যোগ নতুন কমিটির




বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকয়লা আমদানির জন্য সম্ভাব্য দেশ চিহ্নিত করার উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ গঠিত নতুন কমিটি। রবিবার (২৯ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে অনুষ্ঠিত কয়লা আমদানি সংক্রান্ত কমিটির প্রথম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।
জানা গেছে, বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংকট মোকাবিলায় সরকার কয়লা আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত সপ্তাহে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে ১২ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়, লেজিলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, জ্বালানি ও খনিজ সম্প্রদ বিভাগ, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ রেলওয়ে, পেট্রোবাংলা, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক এবং বিদ্যুৎ বিভাগের একজন যুগ্মসচিবকে এই কমিটির সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।

পিডিবি সূত্র বলছে, কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রর তিনটি ইউনিট একসঙ্গে চালালে প্রতিদিন পাঁচ হাজার মেট্রিক টন কয়লার দরকার হয়। এখন একটি ইউনিট সংস্কারের জন্য বন্ধ থাকায় প্রতিদিন চার হাজার মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন হচ্ছে। নতুন স্তর থেকে কয়লা আমদানি শুরু হলেও এত বেশি কয়লা পাওয়া যাবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
কমিটির প্রধান অতিরিক্ত সচিব মাহাবুবুর রহমান বৈঠকের পর জানান, আমরা প্রথম বৈঠকে আমদানির উৎস অনুসন্ধান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ কোনও দেশ থেকে কয়লা আমদানি উপযুক্ত হবে তা কমিটি নির্ধারণ করবে।
কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাম্প্রতিক কয়লা সংকট নিরসনে কয়লা আমদানির পদ্ধতি ঠিক করবে। কয়লা কেনা ও পরিবহন করার বিষয়ে সুপারিশ করবে এই কমিটি। তবে প্রথম বৈঠক হওয়ায় বিস্তারিতভাবে সবদিক নিয়ে আলোচনা হয়নি। উৎস নির্ধারণ হলে পর্যায়ক্রমে সব বিষয়ে আলোচনা হবে।’
পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহম্মদ হোসেইন বলেন, ‘আমরা এখন চেষ্টা করছি, যত দ্রুত সম্ভব বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু করতে। এ জন্য দামের চেয়ে সময়ের মূল্য বেশি দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। যে দেশ থেকে দ্রুত কয়লা আনা যাবে, সেখান থেকেই আপাতত কয়লা আমদানি করবো।’ ঈদের সময় যেন সাধারণ মানুষের কোনও সমস্যা না হয়, সেদিকটি সরকার বিবেচনা করছে বলেও তিনি জানান।