এরআগে, ২০১৫ সালে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য সমঝোতা স্মারক সই করেছিল রিলায়েন্স ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। যেটিকে তারা ফেজ ওয়ান হিসেবে উল্লেখ করেছে। ওই চুক্তির চার বছর পর চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর মেঘনাঘাটে ৭১৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার এলএনজিভিত্তিক একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের চূড়ান্ত চুক্তি করা হয়। চুক্তির এক দিন পরেই রিল্যায়েন্স বিদ্যুৎ প্রকল্পটির ৪৯ শতাংশ শেয়ার জাপানের জিরা’র কাছে বিক্রি করে দেওয়ার খবর জানায়। কেউ কেউ বলছেন, জিরার সঙ্গে তাদের আগে থেকেই সমঝোতা ছিল। শুধু পিডিবির সঙ্গে ক্রয় চুক্তির অপেক্ষায় ছিল তারা।
রিল্যায়েন্সের পক্ষ থেকে ২০১৫ সালের সমঝোতার কথা উল্লেখ করে চট্টগ্রামের কেন্দ্রটিকে দ্বিতীয় ফেইজ-এর বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। রিলায়েন্স চিঠিতে বলেছে, বাংলাদেশের ক্রম বর্ধমান অর্থনীতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বিদ্যুতের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এই চাহিদা পূরণের বাংলাদেশের প্রয়োজন পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের। এর আগে রিলায়েন্সের পক্ষ থেকে তিন দফা এই প্রস্তাব দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের ২৮ মে, একই বছরের ১২ ডিসেম্বর এবং ২০১৮ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর।এই তিন প্রস্তাবকে সংশোধন করে তারা এবার প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
প্রস্তাবে তারা জানায়, কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ায় প্ল্যান্টটি হবে ২২ বছর মেয়াদি৷ গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করাহ হলে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুতের দাম পড়বে প্রতি ইউনিট ২ দশমিক ১৪ সেন্ট। তবে গ্যাসের পরিবর্তে অন্য কোনও জ্বালানি নিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হলে জ্বালানি অনুযায়ী ওই দাম পরিবর্তিত হবে। পেট্রোবাংলার কাছ থেকে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে কেন্দ্রটি চালানো হবে। এজন্য ৭৫ একর জমি এরমইধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। সব চুক্তির পর থেকে ৪২ মাসের মধ্যে কেন্দ্রটি উৎপাদনে আসবে বলে তারা নিশ্চয়তা দিচ্ছে। এ কেন্দ্রের পরবর্তী কাজের অগ্রগতির জন্য পিডিবিকে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওই) ইস্যু করার অনুরোধ জানিয়েছে রিলায়েন্স।
বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এরমধ্যে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলে দেশের মানুষ বিদ্যুৎে পেয়েছে। এখন দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে। বড় কেন্দ্রগুলো উৎপাদনে আসতে শুরু করলে সাশ্রয়ী ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেয়া সহজ হবে। তিনি বলেন, ভারতের কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ২০১৫ সালেই সমঝোতা চু্ক্তি হয়েছে। এরপর তারা চূড়ান্ত চুক্তি করতে চাইলেও এমন কিছু ইস্যু ছিল যেগুলো সমাধান করা যাচ্ছিল না।’ এখন সব ইস্যু সমাধান করে দুই দেশ একমত হওয়ায় তারা চূড়ান্ত চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে বলেও তিনি জানান।