রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের শেষ যন্ত্রাংশ পাঠিয়েছে রাশিয়ান কোম্পানি জিও পোডলস্ক জেএসসি। শেষ সেটের যন্ত্রাংশের মধ্যে রয়েছে চতুর্থ এমএসআর এসপিপি -১২০০ এবং দ্বিতীয় উচ্চ চাপযুক্ত হিটার এইচপিএইচ-কে-৫। এসব যন্ত্রাংশ জাহাজে করে সমুদ্রপথে বাংলাদেশে আনা হয়। বর্তমানে তা দেশের পথে রয়েছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রোসাটমের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দ্বিতীয় ইউনিটের এই যন্ত্রাংশটি হচ্ছে একটি আর্দ্রতা পৃথকীকরণ রিহিটার। এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা টার্বাইনের হাই-প্রেসার সিলিন্ডারের ওপরের ভেজা বাষ্প শুষ্ক করে।
রিহিটারটিকে তিনটি অংশে ভাগ করে জাহাজিকরণ করা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে ৪১ টন ওজনের একটি সেপারেটর,একটি প্রথম স্টেজের রিহিটার— যার ওজন ৮৬ টন এবং একটি দ্বিতীয় স্টেজের রিহিটার, এটির ওজন ১০৫ টন।
জিও পোডলস্ক জেএসসি আরও জানায়,উচ্চ চাপযুক্ত হিটারটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের টার্বাইন হলের যন্ত্রাংশ। এটি ১১ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১২০ টন ওজন বিশিষ্ট একটি বৃহৎ আকারের যন্ত্র।
যন্ত্রটি স্টিম জেনারেটরের সরবরাহ করা পানিকে উত্তপ্ত করে এবং টার্বাইনের প্রাথমিক স্টিমকে ঠাণ্ডা ও ঘনীভূত করে।
এই সরঞ্জামগুলোর সর্বমোট ওজন ৩৫০ টন। যন্ত্রাংশগুলোর কর্মক্ষমতা ৫০ বছর। জিও পোডলস্ক জেএসসি’র পরমাণু প্রকৌশল বিভাগ এসব সরঞ্জামের ডিজাইন, ডকুমেন্টেশন এবং প্রস্তুত করার ডিজাইন সরবরাহ করে।
জানা গেছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নকশা ও বাস্তবায়ন রাশিয়ান ডিজাইন অনুযায়ী হচ্ছে। এই কেন্দ্রে দুইটি বিদ্যুৎ ইউনিটে ভিভিইআর থ্রি-প্লাস রিয়াক্টর থাকবে এবং প্রত্যেকটি ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। কেন্দ্রটি ২০২৪ সালে উৎপাদনে আসবে। এটি দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।