প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগানোর এখনই সঠিক সময়

স্বাধীনতার পরপরই বিপুল সংখ্যক দক্ষ জনশক্তি দেশ থেকে বাইরে চলে গেছে। বিশ্বের উন্নত প্রযুক্তির সঙ্গে আমাদের তাল মিলিয়ে চলতে হবে। এনআরবিদের বিশেষ যোগ্যতা রয়েছে। তারা দেশে ফিরে এসে কাজ করতে চান। তাই বিভিন্ন দেশে আমাদের যে দক্ষ জনশক্তি, যাদের আমরা এনআরবি বলছি; তাদের কাজে লাগাতে হবে।

শনিবার (২১ আগস্ট) এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার ম্যাগাজিন আয়োজিত ‘এনআরবি’স অ্যান্ড লোকাল টেকনিক্যাল রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন ফর ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা এই পরামর্শ দেন।

ওয়েবিনারের প্রধান অতিথি ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম প্রেসিডেন্সির স্পেশাল এনভয় আবুল কালাম আজাদ বলেন, স্বাধীনতার পরপরই বিপুল সংখ্যক দক্ষ জনশক্তি দেশ থেকে বাইরে চলে গেছে। এটাকে ব্রেন ড্রেন বলা যায়। কিন্তু এখন সময় এসেছে ব্রেন গেইন করার। বিশ্বের উন্নত প্রযুক্তির সঙ্গে আমাদের তাল মিলিয়ে চলতে হবে। তাই বিভিন্ন দেশে আমাদের যে দক্ষ জনশক্তি, যাদের আমরা এনআরবি বলছি; তাদের কাজে লাগাতে হবে। 

তিনি বলেন, এর আগে গ্লোবাল ইকোনমির ধস আমাদের তেমন ক্ষতি করতে পারেনি। কিন্তু গত দশ বছরে অবস্থা অনেক পাল্টে গেছে। এখন যে কোন গ্লোবাল ইস্যুর ইমপ্যাক্ট আমাদের ওপরেও পড়বে।

সাবেক বিদ্যুৎ সচিব ড. সুলতান আহমেদ বলেন, এনআরবিদের বিশেষ যোগ্যতা রয়েছে। তারা দেশে ফিরে এসে কাজ করতে চান। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে সর্বশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। কিন্তু আমরা বিদেশিদের ওপর নির্ভর করে আছি। বিশেষ করে মেইনটেইনেন্সে। কোনও মেশিন জটিল নষ্ট হলে তা সোর্স দেশে পাঠাতে হয় বা সেখান থেকে এক্সপার্ট আনতে হয়। দেশেই এ ধরনের কাজ করা যায় কিনা তা খুঁজে দেখতে হবে।

ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও এনার্জি প্যাকের সিইও জনাব হুমায়ুন রশীদ বলেন, এনআরবিদের কাজে লাগাতে পারলে দেশ এগিয়ে যাবে। প্রবাসী বিশেষজ্ঞ আর ব্যবসার মাঝে বন্ধন তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, বিদ্যুতের ক্ষেত্রে এনআরবিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে অবকাঠামো বাড়াতে হবে, না হলে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন থেকে ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার আবদুস সালেক সূফি বলেন, দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এ উন্নয়ন ধারা বজায় রাখতে হলে নানা প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। আর এজন্যই আমাদের এনআরবিদের কাজে লাগাতে হবে। শুধু বিদেশি এক্সপার্ট নিয়ে কাজ করলে চলবে না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের তালিকা তৈরি করতে হবে।

ম্যাগাজিনের সম্পাদক মোল্লাহ আমজাদ হোসেনের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে অন্যদের মধ্যে অপারেশনাল একসিলেন্স বিশেষজ্ঞ ও আমেরিকা প্রবাসী শিক্ষাবিদ ড. হাবিব সিদ্দিকী, নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড থেকে বাংলাদেশের অনারারী কনসাল ইঞ্জি. শফিকুর রহমান ভূঁইয়া অনু, সামিট টেকনোপলিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু রেজা খান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইঞ্জি. আবদুল জলিল খান।