একটি সভ্য দেশে একটি জনগোষ্ঠী কখনও আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করতে পারে না, আর যদি তা হয় তবে মনে করতে হবে সেখানে অবশ্যই মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগণের স্থায়ী নিরাপত্তা দিতে হবে। সামাজিক বনায়নের নামে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নিরাপত্তার অনিশ্চিত করা যাবে না। তারা যেন নিরাপদভাবে তাদের নির্দিষ্ট স্থানে বসবাস করতে পারে সে নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
রবিবার (২৯ আগস্ট) ‘সামাজিক বনায়নের নামে প্রাকৃতিক বন ধ্বংস, খাসিয়া আদিবাসীদের ওপর হামলা ও উচ্ছেদ ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে’ অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশবাদীরা এ দাবি জানান।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা), বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), নিজেরা করি এবং অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি)’র যৌথ উদ্যোগে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
বাপার সভাপতি সুলতানা কামাল বলেন, আদিবাসীদের ওপর নির্যাতনের বিষয় নতুন নয় বরং ধারাবাহিক ঘটনারই বহিঃপ্রকাশ। এখন এটি আর ষড়যন্ত্রের পর্যায়ে নেই বরং তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় আছে। আদিবাসীদের নিশ্চিহ্ন হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, একটি সভ্য দেশে একটি জনগোষ্ঠী কখনও আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করতে পারে না, আর যদি তা’হয় তবে মনে করতে হবে সেখানে অবশ্যই মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। তিনি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগণের স্থায়ী নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে বলেন, তারা যেন নিরাপদভাবে তাদের নির্দিষ্ট স্থানে বসবাস করতে পারে সে নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বাপার সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল জানান, বলেন, দেশের ৩০ লাখের বেশি আদিবাসী জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের নৃতাত্ত্বিক বৈচিত্র্যের অন্যতম ধারক ও বাহক। সিলেট অঞ্চলে বসবাসরত খাসি ও গারো আদিবাসী জনগোষ্ঠী পান চাষের মাধ্যমে তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি আদিবাসী গ্রাম থেকে খাসিদের উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে প্রাকৃতিক বনে গাছ কাটা, হামলা, মিথ্যা মামলা, রাতের আঁধারে পান গাছ কেটে ফেলাসহ তাদের আসা যাওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছে।
তিনি বলেন, অতি সম্প্রতি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় ডলুছড়া পুঞ্জিতে সামাজিক বনায়নের নামে খাসি উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র শুরু হয়। কর্মধা ইউনিয়নের বেলূয়াপুঞ্জিতে পাঁচটি খাসিয়া ও গারো পরিবারের দুই হাজার আট শতাধিক পানগাছ কাটা হয়। বেলূয়াপুঞ্জির ঘটনার সুরাহা না হতেই, আবারও গত শুক্রবার (২৭ আগস্ট) ডলুছড়া পুঞ্জিতে তিনটি জুমের প্রায় পাঁচ শতাধিক পান গাছ কেটে ফেলেছে স্থানীয় ভূমিখোর ও দখলবাজ দুষ্কৃতকারীরা এবং একই দিনে পুঞ্জির বাইরে একাধিক জায়গায় খাসিদের ওপর হামলা চালায় এবং পাঁচজন আহত হয়।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, বন হচ্ছে খাসিয়াদের ঐহিহ্যগত ভূমি। অথচ তাদের ভূমির কোনও কাগজপত্র নেই। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তাদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করবে। আদিবাসীদের ভূমি কমিশন না হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে কেউ উচ্ছেদ করতে পারবে না মর্মে একটি লিখিত ডকুমেন্ট দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশী কবির, বেলা’র প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, এসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি)’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা এবং আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ নিজামুল হক নাসিম।