বিদ্যুৎ বিভাগে কর্মী সংকট, নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত করার নির্দেশ

বিদ্যুৎ বিভাগের ১৫ প্রতিষ্ঠানে কর্মী সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে। অনুমোদিত পদের চারভাগের একভাগ কর্মী নিয়ে চলছে এসব প্রতিষ্ঠানের কাজ। সূত্র বলছে, প্রতিষ্ঠানগুলোতে ১১ হাজার ১৬৯ পদেই কাজ করার লোক  নেই।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র বলছে, করোনার কারণে গত দুই বছর তেমন লোক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। কিন্তু এ সময়ে অবসরে গেছেন অনেকে। ফলে এখানে একটি শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। এখন দ্রুত লোকবল নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে প্রথমে প্রিলিমিনারি, এরপর লিখিত, সর্বশেষ মৌখিক এবং মেডিক্যাল নেওয়া হয়। এতে একজন চাকরি প্রার্থীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অতীতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ থাকলেও কয়েক বছর ধরে বাছাই প্রক্রিয়ায় অধিকতর যোগ্য প্রার্থী বেছে বের করতে গিয়ে সবকিছু কঠিন করা হয়েছে। এরপরও দ্রুত কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের সাম্প্রতিক এক সভায় বিপুল পরিমাণ জনবল ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কর্মী সংকট থাকায় একজনকেই একাধিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে সুষ্ঠুভাবে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

সূত্র বলছে, প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শকের দফতরের ৪০ পদের ১১টিই ফাঁকা। এই প্রতিষ্ঠানটি বিদ্যুতের বিভিন্ন কাজের লাইসেন্সসহ নানা ধরনের কাজ করে থাকে। বিদ্যুৎ বিভাগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিলের (বিইপিআরসি) ৫৫ পদের ৫৫টিই ফাঁকা পড়ে রয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এই হালই বলে দিচ্ছে গবেষণা কতটা এগোচ্ছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ১৮ হাজার ৩৯৪ অনুমোদিত পদের বিপরীতে ১২ হাজার ৩১৬ পদে লোক থাকলেও ৬ হাজার ৮৪ পদই ফাঁকা। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে (আরইবি) এক হাজার ৬৮৫ পদের মধ্যে ২৫৩টি খালি, ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির (ডিপিডিসি) ৫ হাজার ৭৩৪ পদের মধ্যে ৩২৬টি, ঢাকা বিদ্যুৎ সরবরাহ কোম্পানির (ডেসকো) ২ হাজার ৭৪ পদের মধ্যে ১৬৬টি, ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) ২ হাজার ৬৯৮ পদের মধ্যে ১ হাজার ৫টিই ফাঁকা।

নতুন কোম্পানি নর্দান পাওয়ার সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) এখনও অর্গানোগ্রাম (জনবল কাঠামো) চূড়ান্ত হয়নি। অন্যদিকে বিদ্যুতের উৎপাদন কোম্পানির মধ্যে রুরাল পাওয়ার কোম্পানির (আরপিসিএল) ৪২২ জনের জনবল কাঠামোতে ৭৬টি পদে কাজ করার লোক নেই। নর্থওয়েস্ট পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (এনডব্লিউপিডিসি) ১ হাজার ৬৪ পদের বিপরীতে ২১৮ পদে কেউ নেই। আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির (এপিএসসিএল) ৯৩৭ পদের মধ্যে ৭৫টি খালি, ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশের (ইজিসিবি) ৫৫৬ পদের মধ্যে ৭৫টি খালি, কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশের (সিপিজিসিবিএল) ৫৭৫টি পদের বিপরীতে ৪৪৭টি পদ খালি, বি-আর পাওয়ার জোনের ২৩১ পদের মধ্যে মধ্যে ৭৪টি খালি।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক অনুষ্ঠিত বৈঠকে শূন্য পদগুলো পর্যালোচনা করা হয়। এতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জনবল নিয়োগের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে। কোন প্রতিষ্ঠান কী কী কাজ করছে তা তুলে ধরা হয়।

মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, দ্রুত এসব পদ পূরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেদিক দিয়ে বিচার করলে দ্রুতই বিদ্যুৎ বিভাগে বড় নিয়োগ আসতে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ সচিব হাবিবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আসলে এটাকে সংকট বলা যাবে না। ঘাটতি বলা উচিত। আমাদের কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানে জনবলের ঘাটতি রয়েছে। নিয়োগ একটি চলমান প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, প্রতিমাসেই একটি মূল্যায়ন সভা করা হয়। সেখানে আমরা বারবারই এগুলো নিয়ে আলোচনা করি। এবারের সভায় এটি আমরা আরেকটু দ্রুত করে জনবল ঘাটতি কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছি।