জ্বালানি বিভাগে বিশাল নিয়োগের সুখবর শিগগিরই

বড় পরিসরে কর্মী নিয়োগের চিন্তা করছে জ্বালানি বিভাগ। বিভাগের সব কোম্পানির কাছে শূন্যপদের তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। মঙ্গলবার (১ মার্চ) এক জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। ওই বৈঠকে জ্বালানি বিভাগের বিভিন্ন কোম্পানির শূন্যপদ পূরণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, কর্মীর অভাবে জ্বালানি বিভাগের বিভিন্ন কোম্পানির কাজের গতি কমে এসেছে। করোনাকালে বিভিন্ন কোম্পানির নিয়োগ প্রক্রিয়া অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। কর্মীর অভাবে বিভিন্ন কোম্পানির কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।

জ্বালানি বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, কিছু দিন ধরেই আমরা কর্মী সংকটে রয়েছি। এর মধ্যে নতুন সচিব যোগ দিয়েছেন। তিনি এই অবস্থা দেখে দ্রুত কর্মী নিয়োগের কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ জন্য মাত্র দুই দিনের নোটিশে আমরা কোম্পানিগুলোর কাছে শূন্যপদের সংখ্যা জানতে চেয়েছি। এ জন্য কোম্পানিগুলোকে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি গাইড লাইন দেওয়া হয়েছে। যার ওপর ভিত্তি করে তারা শূন্যপদের সংখ্যা জ্বালনি বিভাগকে জানাবে। 

সূত্র বলছে, সব থেকে বেশি সংকটে রয়েছে বাপেক্স। দীর্ঘ দিনই তেল গ্যাস অনুসন্ধান উত্তোলন কোম্পানিটি কর্মী সংকটে রয়েছে। এর পর দেশের গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোতেও রয়েছে প্রকট কর্মী সংকট। অনেক ক্ষেত্রে অর্গানোগ্রামের অর্ধেক কর্মী দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে। 

কর্মী সংকটের জন্য করোনাকে দায়ী করছেন অনেকে। বৈশ্বিক এ মহামারির মধ্যে শুধু জ্বালানি বিভাগ নয়, সব ক্ষেত্রেই কর্মী নিয়োগে স্থবিরতা ছিল। এ সময়ে যেমন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তেমনি মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রেও অভিজ্ঞরা অনেকক্ষেত্রে রাজি ছিল না। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় বিভিন্ন সরকারি দফতর আবার কর্মী নিয়োগ শুরু করেছে। মন্ত্রণালয়ের অন্য বিভাগ- বিদ্যুৎ এরই মধ্যে অনেকগুলো চাকরির বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।

একই সঙ্গে গত কয়েকমাস ধরেই বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন কোম্পানি কর্মী নিয়োগ দিয়ে চলেছে। সেইসঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে শূন্যপদ পূরণের জন্য বৈঠকও হয়েছে। তবে খানিকটা পিছিয়ে থেকে জ্বালানি বিভাগও একই প্রক্রিয়া শুরু করলো।

জ্বালানি বিভাগ বলছে, কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার নজির স্থাপন করতে তৃতীয়পক্ষ দিয়ে মূল্যায়ন করা হয়। এ জন্য বেশিরভাগ পরীক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর মাধ্যমে নেওয়া হয়। এসব ক্ষেত্রে জ্বালানি বিভাগকে অহেতুক সুপারিশ গ্রহণ করতে হয় না।

সূত্র বলছে, এর আগে ওপর পর্যায়ের হস্তক্ষেপের চেষ্টাও বার কয়েক আটকে দিয়েছে তারা। ফলে নিরপেক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করেন।

জ্বালানি বিভাগে পেট্রোবাংলা ছাড়াও পেট্রোবাংলার বিভিন্ন গ্যাস অনুসন্ধান, উত্তোলন, বিতরণ, সঞ্চালন ছাড়াও কোম্পানি হাইড্রোকার্বন ইউনিট, বিষ্ফোরক পরিদফতর, ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিফতর, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন রয়েছে। 

বলা হচ্ছে আগে শুধু দেশীয় জ্বালানি উত্তোলন অনুসন্ধান করলেও এখন বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে। দিন দিন জ্বালানির পরিসর বাড়ছে। সব দিক মাথায় রেখেই বড় পরিসরে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে শিগগিরি সুখবর আসছে।