বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, ‘সরকার যথাযথ অনুসন্ধান কার্যক্রম করতে ব্যর্থ হয়েছে, এ কারণে আজকে গ্যাসের সংকট তৈরি হয়েছে। স্পট মার্কেট (খোলা বাজার) থেকে বেশি দামে এলএনজি আনা বন্ধ করুন। মানুষ ভালো নেই, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে মধ্যবিত্তরা মাস্ক পরে টিসিবির ট্রাকের লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। এই দাম বৃদ্ধি করা যাবে না।’
প্রসঙ্গত, প্রতিদিন গড়ে তিন হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে দেশে। এর মধ্যে দেশের ক্ষেত্রগুলো থেকে ২ হাজার ২৮৯ মিলিয়ন ঘনফুট তোলা হচ্ছে। আমদানি করা হচ্ছে ৭৭০ মিলিয়ন ঘনফুট। স্পট মার্কেট থেকে আমদানি হচ্ছে ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বাকিটা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার ও ওমান থেকে কিনে আনা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর গণশুনানিতে তিনি এসব কথা বলেন। চার দিন ধরে চলা শুনানির শেষ দিন আজ বিএনপির প্রতিনিধিরা অংশ নিলেন।
দেশের গ্যাসক্ষেত্র থেকে যে গ্যাস তোলা হচ্ছে তার দাম বাড়েনি। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় যে এলএনজি আনা হচ্ছে, তার দামও বাড়েনি। কিন্তু প্রতিদিন যে ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি স্পট মার্কেট থেকে আমদানি করা হচ্ছে, তার দাম অনেকটা বেড়েছে। এই অজুহাতে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে কোম্পানিগুলো।
সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আজ জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি হয়। কোম্পানিটি গ্রাহক পর্যায়ে ১১৭ শতাংশ দাম বৃদ্ধি এবং প্রতি ঘনমিটারে বিতরণ চার্জ ২৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫৫ পয়সা করার প্রস্তাব করেছে। তবে বিইআরসি কারিগরি মূল্যায়ন গ্রাহক পর্যায়ে ২০ শতাংশ দাম বৃদ্ধি এবং প্রতি ঘনমিটারে বিদ্যমান বিতরণ চার্জ ২৫ পয়সা বাতিলের সুপারিশ দিয়েছেন।
আলাল বলেন, ‘কেউ যদি একাই সব কৃতিত্ব নিতে চায় তা মাতমের মতো মনে হয়। সব কৃতিত্ব যখন একটি গোষ্ঠী নিতে চায়, তখন অন্যরা স্রোতে গা ভাসিয়ে দেয়। এখন ঠিক তাই চলছে। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন অনেক প্রভাবশালী নেতার গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নজির রয়েছে। কিন্তু এখন চুনোপুঁটিদের ধরা হয়। বড়দের কিছু করা হয় না।’
বিএনপির অন্যদের মধ্যে রিয়াজুল ইসলাম রিজু, জাহাঙ্গীর আলম হাওলাদার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।