বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বলেছেন, ‘পেট্রোবাংলা গ্যাসের দাম বৃদ্ধির যে প্রস্তাবটি দিয়েছে তা যৌক্তিকতা, ন্যায্যতা ও বাস্তবতার নিরিখে সন্তোষজনক নয়। যদি দেখি দাম বৃদ্ধির কোনও বিকল্প রয়েছে তাহলে সেটাই গ্রহণ করা হবে। আর না পেলে যেটুকু দাম না বাড়ালে নয়, যাতে ভোক্তার কষ্ট না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা হবে।’
গত ২১ মার্চ থেকে আজ ২৪ মার্চ পর্যন্ত চার দিনে পেট্রোবাংলার পাইকারি গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, গ্যাস সঞ্চালন কোম্পানির সঞ্চালন চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব এবং দেশের ছয় গ্যাস বিতরণ কোম্পানির গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি করেছে বিইআরসি। আজ শেষ দিন বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) রাজধানীর বিয়াম অডিটোরিয়ামে জালালাবাদ এবং কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির প্রস্তাবিত গ্যাসের দামের ওপর গণশুনানি করেছে কমিশন। শুনানি শেষে চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।
এ সময় অন্যদের মধ্যে কমিশনের সদস্য মকবুল ই ইলাহী চৌধুরী, বজলুর রহমান, মোহাম্মদ আবু ফারুক উপস্থিত ছিলেন।
বিইআরসি চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বলেন, ‘প্রস্তাবটি ন্যায্য ও যৌক্তিক পর্যায়ে নেওয়ার জন্য পোস্ট শুনানিতে বিশ্লেষণ করা হবে। চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে। যদি দেখি আন্তর্জাতিকভাবে কোনও বিকল্প রয়েছে, তাহলে সেটা গ্রহণ করা হবে।’
প্রি-পেইড মিটার স্থাপন বিলম্বিত হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিইআরসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘বিতরণ কোম্পানিগুলো যেভাবে কাজ করছে তাতে অনেক বছর লেগে যাবে। সরকার নীতিমালা করে দিয়েছে খোলা মার্কেট থেকে কেনার জন্য। আল্লাহর ওয়াস্তে উন্মুক্ত করে দেন। গ্রাহকরা নিজে কিনে নেবে।’
প্রসঙ্গত, আগামী ৭ এপ্রিল পর্যন্ত এই শুনানির ওপর লিখিত মতামত দেওয়া যাবে। এরপর কমিশন যাচাই-বাছাই করে শুনানির সময় থেকে বিইআরসির আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে একটি আদেশ দেবেন।
এর আগে ২১ মার্চ অর্থাৎ শুনানির প্রথম দিন পেট্রোবাংলা তাদের পাইকারি গ্যাসের দাম ঘনমিটার প্রতি ২০ টাকা ৩৬ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব করে। বিইআরসির মূল্যায়ন কমিটি সেটি কমিয়ে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ১২ টাকা ৪৭ পয়সা নির্ধারণ করার সুপারিশ করে। যা এখন ৯ টাকা ৩৬ পয়সায় বিক্রি করা হচ্ছে।
এদিকে গ্যাসের সঞ্চালন চার্জ প্রতি ঘনমিটারে শূন্য দশমিক ৪২৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০২১-২২ অর্থবছরে শূন্য দশমিক ৭৩০৭ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছিল জিটিসিএল। এর বিপরীতে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য শূন্য দশমিক ৪৮৯০ টাকা করার সুপারিশ করেছে।
এরপর ২২ মার্চ থেকে আজ ২৪ মার্চ পর্যন্ত তিন দিনে দেশের ছয় গ্যাস বিতরণ কোম্পানি দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করে। বিইআরসির কারিগরি কমিটি কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবিত গ্যাসের দাম যাচাই-বাছাই করে গ্রাহকদের দুই চুলার গ্যাসের দাম ৯৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৮০ টাকা এবং এক চুলার গ্যাসের দাম ৯২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৯০ টাকা করার সুপারিশ করে। যদিও কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবিত দাম ছিল যথাক্রমে ২ হাজার ১০০ এবং ২ হাজার টাকা।