সোলার মিনি গ্রিডের উদ্যোক্তাদের নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

সোলার মিনি গ্রিডের উদ্যোক্তাদের ব্যাপারে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। শিগগিরই কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে পিপিএ বা বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তির কাজ শুরু হবে। কেন্দ্রগুলোর নির্মাণ খরচের ভিত্তিতে নির্ধারণ হবে বিদ্যুতের দাম। স্থানীয় বিতরণ কোম্পানির গ্রিডেও বিদ্যুৎ সরবরাহ হবে মিনি গ্রিড থেকে।

ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) অর্থায়নে দেশে ২৬টি সোলার মিনি গ্রিড স্থাপন করা হয়েছে। যার স্থাপিত ক্ষমতা সব মিলিয়ে সাড়ে পাঁচ মেগাওয়াটের একটু বেশি।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিডিবি) আওতাধীন এলাকায় তিনটি, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বাপবিবো) আওতাধীন এলাকায় ১৯টি, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) আওতাধীন এলাকায় তিনটি এবং নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (নেসকো) আওতাধীন এলাকায় ১টি মিনি গ্রিড অবস্থিত।

পিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, দুর্গম চরাঞ্চলে মিনি গ্রিড স্থাপন করা হয়েছিল। মনে করা হয়েছিল, এসব এলাকায় গ্রিডের বিদ্যুৎ পৌঁছানো কঠিন কাজ। কিন্তু সারা দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্প্রসারণের কারণে চরেও গ্রিড লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে গ্রাহক গ্রিড থেকেই বিদ্যুৎ নিচ্ছে।

সরকারের আশ্বাসে মিনি গ্রিডে বিনিয়োগ করেছিলেন উদ্যোক্তারা। এ বিনিয়োগকারীরা যাতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, এজন্য তাদের বিদ্যুৎ কিনে নেওয়া হচ্ছে।

মিনি গ্রিডগুলোর ক্ষমতা সর্বনিম্ন ১০০ কিলোওয়াট থেকে সর্বোচ্চ ২৪৯ দশমিক ৫ কিলোওয়াট পর্যন্ত। এগুলো সর্বনিম্ন এক বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছর ধরে বিদ্যুৎ সেবা দিচ্ছে।

এর আওতায় উৎপাদিত বিদ্যুতের সর্বোচ্চ মূল্য ৩০ টাকা প্রতি ইউনিট এবং প্রতি তিন বছর পর এর মূল্য ১০ ভাগ হারে বাড়ানো হয়। সেখানে গ্রিডের বিদ্যুতের দাম পড়ে সর্বোচ্চ ছয় টাকা ইউনিট। ফলে অতিরিক্ত দামে কেউ আর মিনি গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নিচ্ছে না।

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে মিনি গ্রিডের বিদ্যুৎ কেনার বিষয়টি নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন। এতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কেনার জন্য ট্যারিফ নির্ধারণ করতে স্রেডার চেয়ারম্যানকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করা হয়।

ওই কমিটি এরমধ্যে ২৫টি সোলার মিনি গ্রিডের ট্যারিফ নির্ধারণ করে প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব (নবায়নযোগ্য জ্বালানি) নেতৃত্বাধীন কমিটি পিডিবির কমিটি ১৩টি মিনি গ্রিড সরেজমিন পরিদর্শন ও অন্যান্য গ্রিডের তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলোর ট্যারিফ চূড়ান্ত করে।

পরে বিদ্যুৎ সচিব আরও তিনটি বৈঠক করেছেন। সর্বশেষ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুৎ সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ২৫টি মিনি গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ কেনার সিদ্ধান্ত হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) সাবেক চেয়ারম্যান মো. আলাউদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মিনি গ্রিড করতে অনেক বিনিয়োগ করতে হয়। এ বিদ্যুতের দামও বেশি। এ কারণে অনেকেই নিরুৎসাহিত হন। তাই এই বিদ্যুৎ কিনে বিইআরসি’র নির্ধারিত দামে গ্রাহকের কাছে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এতে বেশি দামে মিনি গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিক্রি করা হবে।