শিডিউল লোডশেডিংয়ের সঙ্গে সাধারণ মানুষও এখন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে এগিয়ে এসেছেন। যার কারণে এখন দিনে অন্তত দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের সাশ্রয় হচ্ছে। আর তাই জ্বালানি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের সাশ্রয়ের নীতিই দীর্ঘমেয়াদি সংকট থেকে দেশকে রক্ষা করবে।
সম্প্রতি বিশ্ববাজারে বেড়েছে সব ধরনের জ্বালানির দাম। আমদানি করা এলএনজির দামও বেড়েছে। বেড়েছে তেল-কয়লার দামও। পাশাপাশি ডলারের সংকটও দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ এসবের প্রভাবমুক্ত নয়। তবে সরকারের সাশ্রয় নীতির কারণে বড় কোনও সংকটের আশঙ্কা করছেন না কেউ।
বিশেষজ্ঞরা আগে থেকেই বলছেন, এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেয়ে এক মেগাওয়াট সাশ্রয় করা লাভজনক। সরকারি অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও তাই অন্তত ২৫ ভাগ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
এ নির্দেশে সাড়া দিয়ে দেশের বড় কিছু করপোরেট প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে দুদিন ছুটির পাশাপাশি একদিন হোম-অফিস চালু করেছে। এতে বিদ্যুতের পাশাপাশি ওইসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের একদিনের গাড়ির জ্বালানিও সাশ্রয় হচ্ছে।
বিপিসি বলছে, আগে তাদের দিনে ১০০ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছিল। সরকার সাশ্রয় নীতির কারণে সেটা ৩০ কোটিতে নেমে এসেছে।
জানতে চাইলে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, যেসব দেশের কাছে অতিরিক্ত টাকা রয়েছে তারা বেশি দামে জ্বালানি কিনছে। আমাদের মতো দেশগুলো সাশ্রয় করছে।
তবে সরকার যে লোডশেডিং করছে তা আরও পরিকল্পিত হওয়া উচিত বলে মনে করছেন এই জ্বালানি বিশেষজ্ঞ।
একইসঙ্গে জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারকে আরও মনযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলছেন, গাড়িতে জ্বালানি ব্যবহার কমানোরও উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম ভ্রমণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে দেখেছি, অফিস-আদালতে বিদ্যুৎ ব্যবহার সীমিত। এই ধরনের সচেতনতা সকলের জন্যই দরকার।
বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, ডলারের দাম বৃদ্ধি আমাদের জন্য চাপ। এজন্য আরও সাশ্রয় জরুরি। যেসব জিনিস আমদানি করে আনা হয়, সেগুলো যেন কোনোভাবেই অপচয় না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যেসব প্রকল্প জরুরি নয়, সেগুলো সরকার বন্ধ করেছে। এটি ভালো উদ্যোগ।
এই সমস্যা সাময়িক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি হয়তো কেটে যাবে। কিন্তু অপেক্ষা করতে হবে। সাশ্রয়ের এই অভ্যাস থেকে গেলে দীর্ঘমেয়াদে তা দেশের জন্যই ভালো।
জানতে চাইলে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, সাশ্রয় নীতির কারণে দিনে ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম উৎপাদন করতে হচ্ছে। এতে জ্বালানিও কম আমদানি করতে হচ্ছে। যা দীর্ঘমেয়াদি সংকট থেকে রক্ষা করবে।