জ্বালানি তেলের দামের আরও একদফা সমন্বয় চান নৌযান মালিকরা

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নৌযানের ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় যাত্রী কমে গেছে। তাই তেলের দামের আরও একদফা সমন্বয় চান নৌযান মালিকরা। একইসঙ্গে পণ্য পরিবহনের ভাড়াও কমানোর দাবি জানান তারা। মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র সচিব মাহবুব হোসেনের উপস্থিতিতে জ্বালানি বিভাগের সভাকক্ষে এক সভায় এসব দাবি জানানো হয়।

নৌপরিবহনে (কার্গো ভেসেল ও কোস্টাল জাহাজ ইত্যাদি) জ্বালানি তেল ব্যবহারসহ এ সংশ্লিষ্ট সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনার লক্ষ্যে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সরকার তেলের দাম সমন্বয়ের একদিন পর এ বৈঠক হলো।

বৈঠকে নৌযান মালিকদের অধিকাংশই মনে করছেন, জ্বালানি তেলের দাম আরও একদফা সমন্বয় হওয়া উচিত। মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসির পরিচালক (অপারেশন) খালেদ আহম্মেদ বলেন, ‘আমরা জ্বালানি তেলের ব্যবহার নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। এছাড়া সবার সুবিধা ও অসুবিধা শুনেছি। তাদের দাবিগুলোর বিষয়ে বিবেচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। লঞ্চ ভাড়া, যাত্রী পরিবহন নিয়ে আলোচনা করেছি।’

বাংলাদেশ কোস্টাল শিপিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা চায় তেলের দাম কমিয়ে ব্যবসা বাড়াতে। তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে যেমন যাত্রী সংখ্যা কমেছে, তেমনি বেড়েছে পণ্যের দামও। ব্যবসায়ী হিসেবে তো বটেই, সাধারণ গ্রাহক হিসেবে তাদের ভোগান্তি বেড়েছে। সে ভোগান্তি তারা চায় না। সরকারকে বিষয়টি বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। পণ্য বহন করে আনতে হয়। তেলের দাম বেশি থাকলে পরিবহন খরচ বেশি হয়। এতে পণ্যের দাম বেড়ে যায়। আর তার সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। তারা মনে করে, সরকার তেলের দাম আবার সমন্বয় করবে। দেশের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। তারা বলেন, বিপিসির লোকসান পোষাতে দরকার হলে কিছুটা ভর্তুকি দেওয়া হোক। সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করা দরকার।

এদিকে বাংলাদেশ যাত্রী পরিবহন সংস্থার সভাপতি মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে আমাদের সুবিধা কী-অসুবিধা কী জানতে চাওয়া হয়। আমরা যাত্রীসেবা দিয়েই ব্যবসা করি। আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে সরকার তেলের দাম বাড়িয়ে ভাড়া সমন্বয় করলে  ভাড়া বেড়ে যায়। এতে যাত্রীসেবার মান তো বাড়লো না। সেদিক তো বিবেচনা করতে হবে। এমন একটা ভাড়া দিয়ে দিলাম যে যাত্রী আর এলোই না।’

তিনি জানান, ২ হাজার ভেসেল আছে। এরমধ্যে ৭০০টি যাত্রী পরিবহন করে। ৩০০টি বসে আছে, চলে না। বাকি ৪০০ জাহাজে প্রতিদিন ৮৮৫ টনের মতো তেল প্রয়োজন হয়। তেলের দাম কমায়, আমাদের কিছুটা লাভ হলেও নেট প্রফিট তো একই থেকে যাবে। কারণ, যাত্রী বাড়ছে না।

বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ইকবাল হোসেন জানান, তারাও তেলের দাম আরও কমানোর দাবি করেছে। কারণ, নিজেদের শুধু লাভ করলে হবে না, পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টি আবার বিবেচনা করার অনুরোধ করেছি আমরা। তারা আলোচনা করবে বলে জানিয়েছে।

সভায় বিপিসির চেয়ারম্যান এবিএম আজাদসহ বিপিসির পরিচালক (অপারেশন) খালেদ আহম্মেদ, পরিচালক (বিপণন) অনুপম বড়ুয়াসহ পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, সোমবার (২৯ আগস্ট) রাতে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলে লিটারপ্রতি ৫ টাকা করে দাম কমানোর ঘোষণা দেয় সরকার। এর ফলে লিটারপ্রতি ডিজেলের দাম ১১৪ থেকে কমে ১০৯ টাকা, কেরোসিনের দাম ১১৪ থেকে ১০৯ টাকা, অকটেনের দাম ১৩৫ থেকে ১৩০ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১৩০ থেকে কমিয়ে ১২৫ টাকা করা হয়।

এর আগে গত ৫ আগস্ট রাত ১২টার পর সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করে সরকার।