ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার বিষয়ে পিডিবির কাছে জানতে চেয়েছে আইএমএফ

বিদ্যুতের ভর্তুকি কমাতে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া যায় কিনা, পিডিবির কাছে তা জানতে চেয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফ। তবে সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই ভর্তুকি নেওয়া যাবে না বলে মনে করে পিডিবি।

বুধবার (২ নভেম্বর) পিডিবি কার্যালয় পরিদর্শন করেছে ঢাকায় সফররত আইএমএফের প্রতিনিধি দল। এ সময় পিডিবির চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, আইএমএফ ’র প্রতিনিধি দলটি মূলত তথ্য সংগ্রহ করতে এসেছিল। তারা বেশ কিছু বিষয়ে জানতে চেয়েছে। আইএমএফ প্রতিনিধি দলের নেতা পিডিবির চেয়ারম্যানকে বলেন, ‘সরকারের কাছ থেকে আপনারা যে ভর্তুকি নেন, সেই ভর্তুকি না নিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে, সেটি বেশি সুবিধাজনক হয় কিনা।’ এ প্রশ্নের উত্তরে পিডিবির চেয়ারম্যান বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য ভায়াবেল না।’ তিনি বলেন,  ‘বিদ্যুৎ পাওয়াটা মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার পূরণ করার জন্য সরকার বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি দেয়। এজন্য সরকার কিছু দায় নেয় এবং এই খাতে ভর্তুকি দিয়ে থাকে। বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে পিডিবিকে ঋণের অর্থ এবং সুদ দুটি পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু সরকারের কাছ থেকে ভর্তুকি নিলে তা পরিশোধ করতে হয় না। এটি আমাদের জন্য সুবিধাজনক।’

আইএমএফ  প্রতিনিধি দল জানতে চায়, সরকার ভর্তুকি বন্ধ করে দিলে পিডিবি কী করবে, এর জবাবে পিডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তখন পিডিবি সরকারের নীতি মেনেই কাজ করবে।

আইএমএফ  প্রতিনিধি দলের প্রশ্ন ছিল— এখন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে যে ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হচ্ছে, সেটি ২০৩০ সালে শেষ হবে কিনা। পিডিবি জানায়, সেটি সম্ভব নয়। কারণ, নতুন নতুন বেশ কিছু আইপিপি আসছে। তাদেরও ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হবে। এখন আমরা পর্যালোচনা করে দেখছি যে, কবে নাগাদ ক্যাপাসিটি চার্জ শেষ করা যাবে। 

প্রসঙ্গত, এই আলোচনায় আইএমএফ -এর ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে দেন সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান রাহুল আনন্দ, যিনি বাংলাদেশ মিশনেরও প্রধান। দলটি ২৬ অক্টোবর বাংলাদেশে এসেছে। সফরের প্রথম দিন গত বুধবার (২৬ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। ১৫ দিনের সফরে থাকা দলটি গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করেছে। পাশাপাশি সরকারের নীতিনির্ধারক এবং অংশীজনদের সঙ্গে আরও  বৈঠক করবে বলে জানা যায়।

সম্প্রতি আইএমএফ -এর কাছে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। এই সহায়তা চাওয়ার পর আইএমএফ অর্থনীতির নানা খাতে সংস্কারের প্রস্তাব করেছে। এর অংশ হিসেবে জ্বালানি এবং বিদ্যুতে ভর্তুকির বিষয়েও আলোচনা করেছে আইএমএফ।