সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের গাছে কুমড়া ধরার সুখবর দিলেন প্রতিমন্ত্রী

দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশেই প্রথম বাণিজ্যিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিচে সফল কৃষি উৎপাদন শুরু হলো। নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির সিরাজগঞ্জ ৭.৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড সংযুক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিচে কুমড়ার বীজ থেকে কুমড়ার চারা গজানোর খবর জানিয়েছিলাম আমরা গত নভেম্বরে। এবার সেই গাছে কুমড়া ধরার সুখবর জানাচ্ছি।

বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ওনার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই স্ট্যাটস দিয়েছেন।Screenshot 2023-02-15 at 21-21-29 Nasrul Hamid Facebook

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দেশের প্রতি ইঞ্চি জমিতে ফসল উৎপাদনের নির্দেশ দিয়েছেন। সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অনাবাদী জমিতেও ফসল ফলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

এর আগে গত বছরের ২২ নভেম্বর এক স্ট্যাটাসে তিনি বলেছিলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিচে পরীক্ষামূলক কুমড়ো গাছ লাগানো হয়েছিল। সেখানে চারা হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত সবজি উৎপাদন হলে পরবর্তীতে ছায়া ফসল (শেডস ক্রপস) লাগানো হবে। এ ধরণের উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়াতে এই প্রথম। আমরা পরিকল্পনা করছি, দেশের সকল সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রের পতিত জায়গায় সবজি ও ফসল চাষ করে প্রতি ইঞ্চি অনাবাদী জমিকে খাদ্য উৎপাদনের আওতায় নিয়ে আসার।

এনডব্লিউপিজিসিএল সূত্র বলছে, বাংলাদেশ এগ্রো ইকোলোজিক্যাল জোন লিমিটেড নামের ওই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রর নিচে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব কিনা সে বিষয়ে কাজ দেওয়া হয়েছে। এরপর ওই প্রতিষ্ঠানটি গত এক বছর ধরে সিরাজগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর একটি সমীক্ষা করেছে। সেই সমীক্ষায় তারা বলছে এখানে ফসল উৎপাদন সম্ভব। তবে ছায়াযুক্ত স্থানে হয় এমন কিছু ফসল এখানে খুব ভালো হবে। চেরি টমেটো, ক্যাপসিক্যাম, স্ট্রবেরির মতো দামি ফসলও এখানে আবাদ করা সম্ভব। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে গত সপ্তাহে মিষ্টি কুমড়ার বীজ রোপণ করে প্রতিষ্ঠানটি। এখন সবগুলো বীজ ফুঁড়ে চারা বের হয়েছে।331226024_709906167444271_8544406813536381798_n

এক মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য তিন একর জমি প্রয়োজন হয়। এভাবে এক হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জমি প্রয়োজন তিন হাজার একর বা ৯ হাজার বিঘা। সরকারের পরিকল্পনায় ২০৩০ সাল নাগাদ অন্তত চার হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। যার জন্য ৩৬ হাজার বিঘা জমি প্রয়োজন। বিপুল এই জমি অনাবাদী রাখা নিয়ে সরকার এখন চিন্তিত।