সৌর বিদ্যুতের সম্প্রসারণে ইন্টারন্যাশনাল সোলার এলায়েন্স (আইএসএ) এর সঙ্গে কান্ট্রি পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট সই করলো বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে এই চুক্তি সই হয়েছে। চুক্তিতে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষে বিদ্যুৎ সচিব হাবিবুর রহমান এবং আইএসএ এর পক্ষে মহাপরিচালক অজয় মাথুর সই করেন।
প্রসঙ্গত, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাকরন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে আইএসএ গঠিত হয়। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ এর সদস্য হয়।
এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ প্রসারে যথোপযুক্ত নীতিমালা প্রণয়ন, নির্মাণমূলক রূপরেখা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পথ সুগম হবে।
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি বলেন, ‘আমরা সৌর বিদ্যুৎ সম্প্রসারণে বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছি। কিন্তু আমাদের জমির স্বল্পতা রয়েছে৷ এজন্য অন্য যেসব জায়গায় সৌর বিদ্যুৎ স্থাপন করা সম্ভব সেগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সৌর বিদ্যুতের জন্য আমরা একটা রোডম্যাপ তৈরি করতে চাই৷ নেট মিটারিং গাইডলাইন আকর্ষণীয় করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা সংশোধন করার উদ্যোগ আমরা ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছি। কৃষিতে সৌর বিদ্যুৎ কীভাবে সম্প্রসারণ করা যায় সে বিষয়েও কাজ করছি৷’
চুক্তি সইয়ের পর এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ সচিব হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের জমির স্বল্পতা রয়েছে। এজন্য ব্যাপকভাবে সৌর বিদ্যুৎ নির্মাণ করা সম্ভব নয়। বিকল্প অব্যবহৃত জায়গায় বিশেষ করে বাড়ির ছাদ এবং ভাসমান সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে চিন্তা করা হচ্ছে।’
অজয় মাথুর বলেন, ‘কোনও বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রকল্পের নকশা প্রণয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। আইএসএ বাংলাদেশকে এইক্ষেত্রে সহায়তা করবে।’
সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, এ চুক্তির আওতায় সৌর বিদ্যুতের সহযোগিতার ক্ষেত্র সৃষ্টি হবে। এর মাধ্যমে একটি সোলার রোডম্যাপ (২০২০-২০৪১) তৈরি হবে। বাংলাদেশ রাইস রিসার্চ ইনিস্টিউট (BRRI)’কে ২ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১২টি ট্রলি মাউন্টেড সোলার ইরিগেশন সিস্টেম, ২ কিলোওয়াট ক্ষমতার ১২টি পোর্টেবল সোলার ধান মাড়াই যন্ত্র এবং ১.৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার ড্রিংকিং ওয়াটার প্ল্যান্ট সরবরাহ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এছাড়াও পরিকল্পনায় রয়েছে, ২২ কিলোওয়াট ক্ষমতার দুইটি রুফটপ সোলার স্থাপন এবং যেকোনও একটি রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মে রুফটপ সোলার প্রকল্প স্থাপন। ফ্লোটিং সোলার প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পাদন ও ফ্লোটিং সোলার প্রকল্প স্থাপনে সহায়তা। পানি বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন দুটি ম্যানুয়াল স্লুইচ গেটকে ফ্লোটিং সোলারের মাধ্যমে অটো স্লুইস গেটে রূপান্তর। প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধি, তথ্য বিনিময় এবং সর্বোত্তম অনুশীলনকে উৎসাহিত করা, মানসম্পন্ন সৌরপণ্যের প্রসার, প্রযুক্তিগত এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা সুদৃঢ়করণ এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তি স্থাপনের জন্য একটি সৌর প্রযুক্তি অ্যাপ্লিকেশন রিসোর্স সেন্টার (STAR-C) স্থাপন ও অপারেশনে সহায়তা। এছাড়া, সোলার পাওয়ারড কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনও এ চুক্তির আওতায় সহায়তার ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এই চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত।