ভোক্তাদের পাশাপাশি ডিস্ট্রিবিউটর বা পরিবেশকদের জন্যও এলপিজির দাম বেঁধে দেওয়ার দাবি উঠেছে। এলপিজির মূল্য নির্ধারণে ডাকা বিইআরসির সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। রবিবার (২ এপ্রিল) ওই সংবাদ সম্মেলনে মাঠ পর্যায়ে এলপিজি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিইআরসি যে দাম নির্ধারণ করে দেয়, অপারেটররা ফ্যাক্টরিতে তার চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করেন।
প্রসঙ্গত ২০২১ সালে উচ্চ আদালতের নির্দেশে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। রবিবার এলপিজির নতুন দাম নির্ধারণ করেছে তারা। এপ্রিল মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২৪৪ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ১৭৮ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি অটোগ্যাসের দামও কমেছে। নির্ধারিত নতুন দাম রবিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।
বিইআরসি’র এই সংবাদ সম্মেলনে এসে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি সেলিম খান বলেন, আমরা আজ ১২০০ টাকায় ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার কিনেছি। তাহলে কীভাবে ১১৭৮ টাকায় এলপিজি বিক্রি করবো।
এসময় তার সঙ্গে আসা সংগঠনটির কোষাধ্যক্ষ আবু তাহের বলেন, আজ আমি ১০ লাখ টাকার গ্যাস কিনেছি। লোয়াব ১২০০ টাকা দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। এরসঙ্গে ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর এবং বিক্রয়কারীদের লাভ এবং পরিবহন ব্যয় রয়েছে। আমরা যদি ১২০০ টাকায় কিনে এই অঙ্কগুলো যোগ করি তাহলে এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডার কত করে বিক্রি করবো।
যদিও মাঠ পর্যায়ে এলপিজি ব্যবসায়ীদের কথা কানে তোলেনি বিইআরসি। শুনানিতে বিইআরসির সদস্য ড. মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী বলেন, আমরা এখনও এসব বিষয়ে অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে দেখবো।
রবিবারও ঢাকায় ১২ কেজির এলপিজি ১৪০০ থেকে সাড়ে ১৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, তারা আগে বেশি দামে এলপিজি কিনেছেন। এখন তারা কী করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি চেয়ারম্যান নূরুল আমিন বলেন, আমরা মাঠ পর্যায়ে এলপিজি নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে কি না দেখবো। আমরা নিজেরাই এলপিজির বাজার মনিটর করতে মাঠে নামবো। এর বাইরেও জেলা প্রশাসক এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর আলাদা করে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।
এলপিজির খুচরা ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, তাদের বেশি দামে অপারেটরদের কাছ থেকে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। আবার অপারেটররা অভিযোগ করছেন ডিস্ট্রিবিটর এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য বাজারে দাম কমছে না। পরিস্থিতি যাই হোক বাজার থেকে ভোক্তারা বেঁধে দেওয়া দামে এলপিজি পাচ্ছেন না। ভোক্তাদের স্বস্তি দেওয়ার জন্য সরকারি উদ্যোগ কাজে আসছে না।