প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলেই সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্র

প্রডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলে চলতি বছরই সাগরে তেল গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্র আহ্বান করতে চায় পেট্রোবাংলা।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, সর্বশেষ ২০২০ সালে আগ্রহী কয়েকটি কোম্পানির সাথে মতবিনিময় সভা করা হয়েছিল। সভায় কনোকো ফিলিপস, ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম, এক্সম মোবিলের মতো কোম্পানি অংশ নিয়েছিল। সে সময় তাদের কাছে যে পিএসসি উপস্থাপন করা হয়েছিল সেটি পিএসসি ২০১৯ এর সংশোধন করা। এ বিষয়ে সেই সময় কোম্পানিগুলো এই পিএসসি আরও সংশোধন করে আকর্ষণীয় করার পরামর্শ দেয়।

পেট্রোবাংলা এবং জ্বালানি বিভাগ সূত্র নিশ্চিত করেছে–কয়েক দফা সংশোধনের পর পিএসসি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। পেট্রোবাংলা দরপত্র আহ্বানের অন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সম্প্রতি পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান জনেন্দ্রনাথ সরকার বলেন, আমরা চলতি বছর সাগরে তেল গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্র আহ্বান করতে চাই। এজন্য পিএসসি সংশোধন করে চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

পেট্রোবাংলা বলছে, বহুজাতিক তেল গ্যাস কোম্পানির (আইওসি) জন্য সমান গ্যাসের হিস্যা রাখার সুপারিশ করে মডেল পিএসসির (উৎপাদন বণ্টন চুক্তি) খসড়া জমা দিয়েছিল পরামর্শক কমিটি। কমিটির সুপারিশ কোনও কাটছাঁট না করেই মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছিল। জ্বালানি বিভাগও এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে।

এর আগের পিএসসি অনুযায়ী ৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করলে পেট্রোবাংলা পেতো ৫৫ ভাগ, আইওসি পেতো ৪৫ ভাগ। এভাবে ১৫০ মিলিয়ন উত্তোলনে পেট্রোবাংলা ৬০ ভাগ, আইওসি ৪০ ভাগ এবং ২৫০ মিলিয়নের ক্ষেত্রে পেট্রোবাংলা ৬৫ ভাগ, আইওসি ৩৫ ভাগ গ্যাস পেতো। এভাবে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট উৎপাদন হলে পেট্রোবাংলা ৮০ ভাগ এবং আইওসি ২০ ভাগ গ্যাস পেতো।

এবার নতুন পিএসসিতে সেটি অর্ধেক অর্ধেক হবে। অর্থাৎ আইওসি যাই উত্তোলন করুক না কেন তারা অর্ধেক গ্যাস পাবে।

নতুন পিএসসিতে গ্যাসের দামও বৃদ্ধি করা হবে। এখনকার পিএসসিতে গভীর সমুদ্রে প্রতি ইউনিট সোয়া সাত ডলার ও অগভীর সমুদ্রে গ্যাসের দাম ধরা হয়েছে সাড়ে পাঁচ ডলার। এখন পিএসসিতে গভীর সমুদ্রে সোয়া সাত ডলারের সঙ্গে পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে তার কর দিয়ে দেওয়া এবং প্রতিবছর দেড়ভাগ হারে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তবে অগভীর সমুদ্রে এই দুই সুযোগের কোনটি নেই।

উডম্যাকেঞ্জি পেট্রোবাংলার পরামর্শক হিসেবে যে প্রতিবেদন দিয়েছে তাতে বলা হয়েছে—দাম বাড়িয়ে ৮/৯ বা ১০ ডলার হলে কী পরিস্থিতি হতে পারে বলা হয়েছে।

বর্তমানে গভীর ও অগভীর সাগরের মোট ২৬টি ব্লকের মধ্যে ৪ ও ৯ নম্বর এই দুইটি ব্লকে কাজ করছে ভারতীয় কোম্পানি ওএনজিসি।

আন্তর্জাতিক আদালতে ২০১২ সালে মিয়ানমার ও ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে সমুদ্র সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির পর সর্বমোট ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটারের বেশি সমুদ্র অঞ্চলের ওপর মালিকানা নিরঙ্কুশ হয়। কিন্তু এখনও সেই অর্থে সাগরে তেল গ্যাস অনুসন্ধান শুরু হয়নি।