বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) চেয়ারম্যানসহ তিন কর্মকর্তার ল্যাপটপ চুরি হয়েছে সম্প্রতি। একসঙ্গে লকার ভেঙে কিছু টাকা চুরিরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু খোয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জিনেন্দ্রনাথ সরকার। তিনি এ ঘটনাকে সাধারণ চুরি হিসেবেই দেখছেন।
জিনেন্দ্রনাথ সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটি একটি সাধারণ চুরি। এতে আমাদের কোনও গুরুত্বপূর্ণ কিছু খোয়া যায়নি। ল্যাপটপ চুরি হলেও তাতে গুরুত্বপূর্ণ কোনও অফিসিয়াল তথ্য ছিল না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা ই-ফাইলিং করলেও সেই ফাইলে সবার আলাদা আলাদা কোড আছে। সেটা প্রত্যেকেরই আলাদা। আমার কোড অন্য কেউ খুলতে পারবে না।’ পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জানান, টাকা-পয়সা চুরির যে কথা এসেছে, সেটি পেট্রোবাংলার অফিসিয়াল কোনও টাকা না। কেউ যদি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কিছু টাকা রুমে রেখে থাকে, সেটা তার ব্যক্তিগত টাকা। তিনি জানান, পেট্রোবাংলার বেশিরভাগ রুম কাচের, এরমধ্যে এই সাধারণ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে তেজগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। তবে চুরি হওয়া মালামাল এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপূর্ব হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বড় কিছু হয়নি। পেট্রোবাংলা যে জিডি করেছে, তাতে তারা কক্ষের জিনিসপত্র এলোমেলো থাকার কথা উল্লেখ করেছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। প্রাথমিকভাবে আমরা এটিকে সাধারণ চুরি বলে মনে করছি।’
জানা গেছে, গত ২৭ আগস্ট পেট্রোবাংলায় একাধিক কর্মকর্তার দফতর থেকে বিভিন্ন ধরনের মালামাল চুরি হয়েছে। এরপর আবার ২৯ আগস্ট রাতে চেয়ারম্যানের রুমে থাকা ল্যাপটপসহ অন্য মালামাল হারানো যায়। এ ছাড়া রুমটি এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া যায়। চেয়ারম্যান ছাড়াও পরিচালক (অর্থ) এবং সংস্থাপন বিভাগের মহাব্যবস্থাপকের কক্ষ থেকেও ল্যাপটপ ও অন্য মালামাল চুরি হয়েছে। চেয়ারম্যানের পিএসের রুম থেকে নগদ টাকা চুরি হয়েছে গেছে। পরিচালকের (অর্থের) অধীন হিসাব শাখার লকার ভেঙে টাকা নিয়ে গেছে চোরেরা।