তরুণ-তরুণীদের সৃজনশীল, অনন্য উদ্ভাবনী চিন্তা-চেতনা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে কার্যকর অবদান রাখবে বলে মনে করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত আধুনিক ও পরিবর্তন হয়। এ পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইতে পারে তরুণ সমাজ। তরুণদের যার যার অবস্থান থেকে সময়োচিত নেতৃত্ব দিতে পারলে উন্নত সমৃদ্ধ পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।’
শনিবার (৯ ডিসেম্বর) শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইয়াং বাংলা’ আয়োজিত এবং পাওয়ার সেল ও গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুওরেন্স কোম্পানির সহযোগিতায় উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা ‘বিচ্ছরণু ২.০’-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আগামী প্রজম্মের কাজের পরিবেশ আমাদেরই তৈরি করে দিতে হবে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত উত্তরোত্তর বড় হচ্ছে। সৃষ্ট সমস্যাগুলোর একটি স্মার্ট ও পরিবেশবান্ধব সমাধান প্রয়োজন। আমাদের সমস্যার সমাধান আমাদেরই করতে হবে... আমাদের মতো করেই করতে হবে। বাংলাদেশের থ্রি হুইলার বা ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সমস্যা একান্তই আমাদের। এর সমাধানও আমাদের বের করতে হবে। বিদ্যুৎ চালিত যানবাহনের সংখ্যা বাড়ানো গেলে কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে। তাছাড়া ইঞ্জিনের দক্ষতা জ্বালানি তেল চালিত যানবাহনের চেয়ে বিদ্যুৎ চালিত যানবাহনের বেশি।
মুজিব ক্লাইমেট প্রসপারিটি প্ল্যান, ডেল্টা প্ল্যান, ইন্টিগ্রেটেড এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার মাস্টার প্ল্যান (আইইপিএমপি) ২০২৩ ইত্যাদি পরিকল্পনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সরকার কাজ করছে। আমরা তরুণদের জন্য একটা প্লাটফর্ম তৈরি করাছি যাতে আগামীপ্রজম্ম মনে করে সরকার তাদের সাথে আছে। সরকারি কাজের সাথে আগেই পরিচিত করে দিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম চালু করেছে এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয়ে ইন্টার্নশিপ শুরু করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
‘বিচ্ছুরণ ২.০’ উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতায় সাতটি ক্যাটাগরিতে (স্মার্ট প্রোডাকশন, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড এনার্জি, ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট, স্মার্ট গ্রিড সলিউশন, এনার্জি ডিমান্ড ফোরকাস্টিং স্মার্ট অপারেশন অ্যান্ড এনার্জি মনিটরিং এবং আইওটি বেজড পাওয়ার এন্ড এনার্জি সলিউশন) ৭০০ আইডিয়া জমা পড়েছিল। এর মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠ ১০টি আইডিয়াকে বাস্তবে রূপদানের লক্ষ্যে আর্থিক, কারিগরি ও ব্যবস্থাপনা সহযোগিতা করা হবে। শনিবার সাতটি দল দলগতভাবে পুরস্কার পায়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন, গ্রিন ডেল্টা ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ফারজানা চৌধুরী ও ইয়াং বাংলা টিম লিডার অধ্যাপক মো. রশিদুল হাসান বক্তব্য রাখেন।