ঝড়ের কারণে রাজধানীর অনেক জায়গা বিদ্যুৎবিহীন, চলছে মেরামতের কাজ

ঘূর্ণিঝড় রিমাল নিম্নচাপে পরিণত হলেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে ঢাকায়। ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঢাকার বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি সূত্র বলছে, ঝড়ের প্রভাব কমে গেলে বিতরণ ব্যবস্থা আবার স্বাভাবিক হবে। দুটি বিতরণ কোম্পানি সূত্র বলছে, ঝড়ে কোনও কোনও এলাকায় গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এসব এলাকায় বৃষ্টি কমলে স্বাভাবিক করার কাজ শুরু হবে। কোনও কোনও জায়গায় ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। যেসব এলাকায় মেরামতের কাজ চলছে সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রামে ২৩৫ মিলিমিটার। ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে ১৫১ মিলিমিটার।

গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে

প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমাল উপকূলে তাণ্ডব চালিয়ে নিম্নচাপ আকারে এখন দেশের মধ্যে অবস্থান করছে। উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় আছে। এদিকে মধ্যরাত থেকেই ঢাকায় ঝড়ের প্রভাব পড়তে শুরু করে। দিনভর বৃষ্টি, দুপুরের পর ঢাকার দিকে নিম্নচাপটি এগিয়ে এলে বেড়ে যায় ঝোড়ো হাওয়া। ইতোমধ্যে রাজধানীর বহু এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। আবার কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ যাচ্ছে আর আসছে।

মোহাম্মদপুর থেকে রফিকুল হাসান বলেন, ‘বিকালে অনেকটা সময় বিদ্যুৎ ছিল না। ল্যাপটপের চার্জ শেষ, মোবাইল ফোনেরও। কখন বিদ্যুৎ আসবে কেউ জানে না। অনেকটা অনিশ্চিত অবস্থায় আছি।’

এদিকে শান্তিনগরের রায়হানা বেগম বলেন, ‘সন্ধ্যা থেকে চারবার বিদ্যুৎ গেলো। ১০ মিনিটে নাই, আবার আসে। একবার ট্রান্সফরমার ব্লাস্টের আওয়াজ পেলাম। এখনও বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে।’ একই অভিযোগ পাওয়া গেছে রাজধানীর নীলক্ষেত, মধুবাগ, রামপুরাসহ বেশ কিছু এলাকা থেকে।’

বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে মেরামতের কাজ চলছে। ছবি: সাজ্জাদ হোসেন

মিরপুর থেকে রাজু আহমেদ জানান, বিকালে বিদ্যুৎ গেছে, এখনও আসেনি। কেন আসেনি জানি না। পরে কন্ট্রোল রুমে ফোন দিয়ে জানালাম। এখন শুনলাম গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে গেছে। মেরামতের কাজ চলছে। কখন মেরামত শেষ হবে কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারলো না।

উত্তরা থেকে রোখসানা আফরোজ বলেন, দুপুরে ঝড়ের বেগ বাড়তে শুরু করলো আর বিদ্যুতের আসা-যাওয়া শুরু হলো। এখন পর্যন্ত প্রায় ছয়বার বিদ্যুৎ গেলো। প্রতিবার ১০ থেকে ৩০ মিনিট করে যাচ্ছে বিদ্যুৎ।

জানা গেছে, ঢাকার দুই বিতরণ কোম্পানির মধ্যে ডিপিডিসির অধীন এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ১ হাজার ৫৭ মেগাওয়াট। এখানে কোনও লোডশেডিং নেই আজ। লাইন মেরামতের জন্য বিদ্যুৎ বন্ধ। এদিকে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো) জানায়, তাদের এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৭৯৫ মেগাওয়াট। চাহিদার সমান বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে।

জানতে চাইলে ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ডিপিডিসি) পরিচালক (অপারেশন) শফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের অধীন কোনও এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে না। তবে কোনও কোনও এলাকায় ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সেখানে মেরামতের কাজ চলছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে মেরামতে সময় লাগছে। ঝড় কমলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’

একই কথা জানিয়েছেন ডেসকোর চিফ ইঞ্জিনিয়ার মফিজুল ইসলাম ভুইয়া। তিনি বলেন, ‘লোডশেডিং হচ্ছে না। বহু এলাকায় ঝড়ে গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে গেছে। বহু এলাকায় ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে। আমাদের মোট ফিডারের সংখ্যা ৫৮৭টি। এর মধ্যে মেরামতের জন্য বন্ধ আছে প্রায় ২০-২৫টি।’