দেশের অর্থনীতিতে গত এক দশকে যে দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে সেখান থেকে উত্তরণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সকল প্রকল্প এবং চুক্তির নিরীক্ষা (অডিট) করার পরামর্শ দিয়েছেন জ্বালানি সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি) আয়োজিত ‘চ্যালেঞ্জস ইন রিফর্ম ইন এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার সেক্টর’ শীর্ষক সেমিনারে এসব পরামর্শ ওঠে এসেছে। আইবিএফবির অফিসে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পণ্যের মূল্য নির্ধারণে গণশুনানি আবার চালু করার প্রয়াসকে স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি জ্বালানি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ম. তামিম বলেন, “ক্যাপাসিটি পেমেন্ট নিয়ে একটা ভুল ধারনা আছে, এক লাখ কোটি টাকার পেমেন্ট সেখানে কতটুক ব্যবহার হচ্ছে সেটা অনুসন্ধান করা দরকার”।
তিনি বলেন, “আমাদের দেশে টার্গেট করে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে। ব্যবহার করছি ১৩ হাজার মেগাওয়াট। জ্বালানি বিদ্যুৎসহ সকল টেকনিক্যাল বিষয় পলিটিক্যাল ইস্যু বানানো হয়েছে। জিডিপি থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে তথ্য-সন্ত্রাস হয়েছে। পলিটিক্যাল কারণে ২০ বছর ধরে ৯ শতাংশ গ্রোথ দেখানো হয়েছে”।
প্রফেসর ইজাজ বলেন, এনার্জি সেক্টরে সবকিছু আমদানি নির্ভর হয়ে গেছে। আমাদের বর্তমান গ্যাস উৎপাদন ২২০২ এমএমসিএফডি। গত ৫ বছরে আমরা সমপরিমাণ গ্যাসের ব্যবহার বাড়িয়েছি অনেক ক্ষেত্রে। ফলে সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএর) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, জ্বালানি মন্ত্রণালয় দেশের সরকার প্রধানের দফতরে থাকা সত্ত্বেও আমরা দেখেছি, গত এক দশকে কীভাবে প্রতিযোগিতা ছাড়াই এনার্জি চুক্তি করা হয়েছে।
বিটিএমএর পরিচালক রাজীব হায়দার বলেন, গত কয়েক বছরে শিল্পে গ্যাসের দাম বেড়েছে দুই শ শতাংশের বেশি। বর্তমানে ৩১ দশমিক ৫ টাকা রেটে গ্যাস কিনতে হচ্ছে আমাদের।
এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার সম্পাদক মোল্লা আমজাদের সঞ্চালনায় সভায় বাংলাদেশ সোলার অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ) সভাপতি নুরুল আখতার, আইবিএফবির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, ভাইস প্রেসিডেন্ট এমএস সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।