রাতে তেল বিক্রি করতে চান না পাম্প মালিকরা

ইরান যুদ্ধের পর থেকেই দেশে দেখা দিয়েছে জ্বালানি সংকট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছে না যানবাহনের চালকেরা। এমন পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ঘটেছে অপ্রীতিকর ঘটনাও। এমন যখন পরিস্থিতি ঠিক তখন রাতে অকটেন ও পেট্রোল বিক্রি বন্ধ রাখতে চাচ্ছে পাম্প মলিকেরা। সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এ দুই ধরনের জ্বালানি বিক্রির সময়সীমা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে তারা।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর মগবাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন থেকে এসব দাবি করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে পাম্প মালিকরা রাতে অকটেন ও পেট্রোল বিক্রি করতে চাচ্ছে না বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন থেকে বলা হয়, রাতের বেলায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। দুষ্কৃতকারীদের হামলা, ভাঙচুর ও আতঙ্কের কারণে পাম্পের কর্মীরা নিরাপদ বোধ করছেন না। অতীতে পাম্প ব্যবস্থাপকদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এ অবস্থায় রাতের বেলায় বিক্রি চালু রাখা ঝুঁকিপূর্ণ।

সংগঠনটির সভাপতি নাজমুল হক বলেন, “নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে স্বাভাবিকভাবে তেল বিক্রি সম্ভব নয়।” তিনি পাম্পে নিরাপত্তা জোরদার, পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত এবং সরকারি মনিটরিং শক্তিশালী করার দাবি জানান।

সময় নির্ধারণের পক্ষে যুক্তি দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গভীর রাতে পাম্পে হঠাৎ ভিড়, বিশৃঙ্খলা ও হামলার ঝুঁকি বাড়ে। অনেক দেশে নির্দিষ্ট সময় মেনে তেল বিক্রি করার উদাহরণও তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ট্যাংক লরিতে কম তেল সরবরাহের বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগ জানানো হয়। বলা হয়, পূর্ণ ধারণক্ষমতার পরিবর্তে কম তেল দিলে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায় এবং অপচয়ের ঝুঁকি বাড়ে।

পাম্পে তেল থাকা সত্ত্বেও বিক্রি বন্ধের অভিযোগের জবাবে বলা হয়, ট্যাংক পুরো খালি হলে এয়ার লক তৈরি হয়ে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। তাই অনেক সময় কিছু তেল রেখে বিক্রি সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘প্যানিক বায়িং’ উল্লেখ করে সংগঠনটি বলছে, চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। আগে যেখানে দিনে পাঁচ হাজার লিটার বিক্রি হতো, এখন তা ২০ থেকে ২৫ হাজার লিটার ছাড়িয়েছে। অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল মজুত করছেন।