বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেছেন, চলতি এপ্রিল মাস তো বটেই, আগামী দুই মাস দেশে জ্বালানি তেলের কোনও সংকট তৈরি হবে না।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে বর্তমানে ডিজেল মজুত রয়েছে এক লাখ এক হাজার ৩৮৫ টন, অকটেন ৩১ হাজার ৮২১ টন, পেট্রোল ১৮ হাজার ২১১ টন এবং ফার্নেস অয়েল ৭৭ হাজার ৫৪৬ টন। এছাড়া, জেট ফুয়েল মজুত রয়েছে ১৮ হাজার ২২৩ টন।
মনির হোসেন জানান, জ্বালানি তেলের সরবরাহে কোনও ঘাটতি নেই। বরং, আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত কেনাকাটার প্রবণতাই বাজারে চাপ বাড়াচ্ছে।
তিনি বলেন, “২৮ ফেব্রুয়ারির আগে যেমন সরবরাহ ছিল, এখনও একই পরিমাণ তেল দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু, ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় মানুষ বেশি কিনছে।”
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “একটি পাম্পে আগে দৈনিক ৫০ থেকে ৫৪ হাজার লিটার অকটেন সরবরাহ করা হলেও এখন ৮০ হাজার লিটারের বেশি দিয়েও চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না।”
মনির হোসেন বলেন, “প্রতি মাসে পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয় এবং ভবিষ্যৎ মূল্য পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে লরিতে ট্র্যাকিং ডিভাইস বসানো হবে।”
ফুয়েল পাস নিয়ে এই যুগ্মসচিব বলেন, “এই পাইলট প্রকল্পে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার নিবন্ধন হয়েছে।” শিল্প খাতে ডিজেল সরবরাহে কোনও ঘাটতি নেই জানিয়ে তিনি বলেন, “সক্রিয়-নিষ্ক্রিয় ডিলার শনাক্তে একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে।”
এদিকে অভিযানের বিষয়ে তিনি জানান, ৩ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৯ হাজার ১১৬ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৩ হাজার ৫১০ মামলা করা হয়। এ সময় মোট এক কোটি ৫৬ লাখ ৯ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে ৪৫ জনকে।
অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মজুদকৃত জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, উদ্ধার করা জ্বালানির মধ্যে রয়েছে ডিজেল ৩ লাখ ৬৬ হাজার লিটার, অকটেন ৩৯ হাজার ৭৭৬ লিটার ও পেট্রোল ৮৭ হাজার ৯৫৯ লিটার।
এছাড়া, সম্প্রতি চট্টগ্রাম থেকে ৪৮ হাজার ৫০০ লিটার ফার্নেস অয়েল উদ্ধার করা হয়েছে। সবমিলিয়ে মোট উদ্ধার করা হয়েছে ৫ লাখ ৪২ হাজার ২৩৬ লিটার অবৈধ জ্বালানি তেল।