এবার কমানো হলো ফার্নেস অয়েলের দাম। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের দাম ১১৩ টাকা ৫৪ পয়সা থেকে কমিয়ে ১০৯ টাকা ১০ পয়সা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, আজ মধ্যরাত থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে।
এর আগে গত ১৮ মে দাম ১৮ টাকা ৮৫ পয়সা বাড়িয়ে ১১৩ টাকা ৫৪ পয়সা করা হয়েছিল। তারও আগে ১২ এপ্রিল প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের দাম ৭০ টাকা ১০ পয়সা থেকে ২৪ টাকা বাড়িয়ে ৯৪ টাকা ৬৯ পয়সা করা হয়েছিল ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর (পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড, যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড এবং স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেড) প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে গণশুনানি করে বিস্তারিত পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করে ২২ ফেব্রুয়ারি বিইআরসি আদেশ নম্বর—২০২৫/০৬-এর মাধ্যমে বিপিসির মাধ্যমে সরবরাহ করা ফার্নেস অয়েলের ভোক্তাপর্যায়ে মূল্যহার, বিপিসির মজুতকরণ ও সরবরাহ চার্জ, ফার্নেস অয়েল বিপণনে তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর চার্জ এবং সমন্বিত পরিবহন ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হয়। আদেশে ফার্নেস অয়েলের ভোক্তাপর্যায়ের মূল্যহার কমিশন তিন মাস ভিত্তিতে বা প্রয়োজন অনুসারে কমিশনের মাধ্যমে সমন্বয়ের বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে।
বিইআরসি জানায়, ফার্নেস অয়েলের মূল্যহার সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি ১৩ মে থেকে ২৯ জুন সময়ের আমদানি করা পরিশোধিত ফার্নেস অয়েলের আন্তর্জাতিক বাজারের দাম (প্লাটস রেট ) মে-জুন ২৬ মাসের ক্রুড অয়েলের দাম এবং মার্কিন ডলারের বিনিময় হার পরিবর্তন বিবেচনায় জুলাই মাসে ফার্নেস অয়েলের মূল্যহার সমন্বয় করার জন্য সুপারিশ করে। ৩০ জুন অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিশন সভায় কমিশন এসব বিবেচনা করে জুলাই মাসে ফার্নেস অয়েলের মূল্যহার প্রতি লিটার ১০৯.১০ টাকায় সমন্বয় করা হয়েছে। এই দাম মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টা থেকে প্রযোজ্য ও কার্যকর হবে।
প্রসঙ্গত, দেশে আমদানি করা ফার্নেস অয়েলের একটি বড় অংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়। এই দাম বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুতের দামের ওপর প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়লে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন খরচও বেড়ে যাবে।