বাজারে ভেজাল রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস, বিস্ফোরণের শঙ্কায় সতর্কতা

দেশের বাজারে আর-৪১০এ রেফ্রিজারেন্ট গ্যাসের নামে ভেজাল পণ্য বিক্রির উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা দিয়েছে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (ব্রামা)। সংগঠনটির দাবি, অধিক মুনাফার আশায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী আর-৩২ গ্যাসকে আর-৪১০এ হিসেবে বাজারজাত করছে। এতে ভোক্তারা প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি এয়ার কন্ডিশনিং যন্ত্রপাতির ক্ষতি, অগ্নিকাণ্ড, বিস্ফোরণ এবং প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

সংগঠনের সভাপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্কতা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি ঢাকার জয়কালী মন্দিরসংলগ্ন এলাকায় ভেজাল রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস প্রস্তুত ও বাজারজাত করার অভিযোগে একজনকে আটক করে ওয়ারী থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ব্রামার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাজারে প্রায় সাত হাজার থেকে ১০ হাজার ভেজাল রেফ্রিজারেন্ট গ্যাসের সিলিন্ডার থাকতে পারে, যা জননিরাপত্তা, ভোক্তা স্বার্থ এবং পরিবেশের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

এ পরিস্থিতিতে সদস্য, ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, পরিবেশক, ডিলার, টেকনিশিয়ান ও সাধারণ ভোক্তাদের গ্যাস কেনার আগে সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। বিশেষ করে সিলিন্ডারের গ্যাসের চাপ নির্ধারিত মান অনুযায়ী রয়েছে কি না, আমদানিকারকের নাম-পরিচয়, রেফ্রিজারেন্টের রাসায়নিক নাম, ভ্যাট/বিআইএন নম্বর, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, ব্র্যান্ড ও লট নম্বর স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অস্বাভাবিক কম দামের, উৎস অজানা বা সন্দেহজনক গ্যাস কেনা ও ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ভেজাল ও অবৈধ রেফ্রিজারেন্ট গ্যাসের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এ ধরনের কোনো তথ্য বা অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ব্রামাকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ এবং রেফ্রিজারেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং খাতের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করা হয়।