জানা গেলো রাজধানীতে বাস-সিএনজি অর্ধেকে নামার রহস্য

গ্যাসের অভাবে রাজধানীতে সিএনজি অটোরিকশা ও গ্যাসচালিত বাসের সংখ্যা কমে গেছে। ফলে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ভাড়ায় বিকল্প পরিবহন ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘একটি গাড়ি আগে যে সময় যাত্রী পরিবহনে ব্যয় করত, এখন তার বড় অংশ গ্যাস সংগ্রহে চলে যাচ্ছে । ফলে সড়কে যানবাহনের উপস্থিতিও কমে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা, বিমানবন্দর সড়ক, বনশ্রী, ডেমরা ও মিরপুরসহ প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে গণপরিবহনের এই চরম সংকটের চিত্র দেখা যায়।

ডেমরার বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমার বাবাকে নিয়ে মিরপুরে অনেক কষ্টে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম। সিএনজি পাচ্ছিলাম না। ভাড়াও বেশি। আসার সময় দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করে একটা সিএনজি পেলাম। ভাড়া চায় দ্বিগুন। সড়কে সিএনজির সংখ্যা কম। যেগুলো আছে চালকরা বলছেন, গাড়ীতে পর্যাপ্ত গ্যাস নেই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে গ্যাস নিতে হয়। এ জন্য ভাড়া বেশি।’’

রাজধানী ঢাকা জুড়ে দেখা দেওয়া তীব্র গ্যাস সংকটের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে নগরীর সার্বিক গণপরিবহন ব্যবস্থায়। সিএনজি পাম্পগুলোতে দীর্ঘসময় অপেক্ষার পরও পর্যাপ্ত চাপ (প্রেশার) না থাকায় রাস্তায় আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে গ্যাসে চালিত বাস, সিএনজি অটোরিকশা এবং রাইড শেয়ারিং অ্যাপের প্রাইভেট কারের সংখ্যা। ফলে প্রতিদিনের গন্তব্যে পৌঁছাতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ নগরবাসী। সুযোগ বুঝে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছেন সিএনজি ও উবার চালকেরা ।

বনশ্রীর বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘‘রাস্তায় সিএনজির সংখ্যা কম। যারা আছে তারা ভাড়াও বেশি চাচ্ছেন। বনশ্রী থেকে গুলশানের ভাড়া ৩০০-৩৫০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। কিন্তু আগে বনশ্রী থেকে ২০০ টাকায় যাওয়া যেত।

বাড্ডার আব্দুর রশিদ বলেন, ‘‘বাড্ডা থেকে কারওয়ান বাজার আসতে পূর্বে ২০০-২৫০ টাকায় আসা যেত। এখন ৩০০ টাকার বেশি চায়। গ্যাস সংকটের কারণে এক দিকে সিএনজি কমে গেছে আর এই অবস্থায় ভাড়াও বেশি নেওয়া শুরু করেছে। 

সিএনজি চালক মোহাম্মদ মিল্লাত বলেন, ‘‘গ্যাস-সংকট শুরু হওয়ার পর নিয়মিত সিএনজি চালাতে পারছেন না। দু-এক দিন গ্যাস পেলেও ৮-৯ ঘণ্টা সময় লাগছে। যে গ্যাস পাচ্ছেন, তা দিয়ে খরচ মিটিয়ে নিজের কিছু থাকছে না। অটোরিকশা চালালেই সংসার চলে, না চালালে চলে না। খুব সংকটের মধ্যে আছেন। যতটুকু ভাড়া পাচ্ছেন একটু বেশি না নিলে আমরাও টিকতে পারছিনা।’’

বাড়তি ভাড়া নেওয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়ে অটোরিকশাচালক মো. আক্তার হোসেন বলেন, ‘‘গ্যাস নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে না। পেলেও দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে নিতে হচ্ছে। গ্যাসের চাপও কম। সারাদিন অপেক্ষা করে গ্যাস নিতে হয়। এই গ্যাস দিয়ে বেশি চলা যাচ্ছে না, তাই বাড়তি ভাড়া নিতে হচ্ছে।’’

এদিকে সিএনজির ন্যায় উবার পাঠাওয়ের অন্তর্ভুক্ত গাড়িগুলোতেও ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে।

যাত্রীরা বলছেন, অ্যাপেই ভাড়া বেশি দেখাচ্ছে। কামাল হোসেন নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘‘রামপুরা থেকে গাবতলী গ্যাস সংকটের আগে ৩৫০ টাকায় যাওয়া যেত। এখন ৪০০-৪৫০ টাকা লাগছে।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, এমন অবস্থা চলতে থাকলে সামগ্রিকভাবে জীবন যাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। যারা সিএনজি কিংবা উবারে চলাচল করে তারাও পাবলিক বাস ব্যবহার করতে শুরু করবে। এই অবস্থার দ্রুত উত্তরণ চান তারা।