দেশে চলমান গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে সিএনজিচালিত যানবাহনে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ (প্রেশার) কমে যাওয়ায় জ্বালানি নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে চালকদের। এতে রাজধানীতে সিএনজিচালিত বাস ও অটোরিকশার সংকট দেখা দিয়েছে, ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
রাজধানীর তেজগাঁও, মগবাজার, কল্যাণপুর ও বাড্ডা এলাকার বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, পাম্পগুলোর সামনে প্রধান সড়ক পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সারি। পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেক চালক প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছেন না।
প্রাইভেটকার চালক ইউনুস আলী বলেন, "পাম্পে গ্যাসের চাপ এত কম যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ২০০ থেকে ২৫০ টাকার বেশি গ্যাস নেওয়া যাচ্ছে না। কয়েকটি ট্রিপ শেষ করেই আবার লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।"
এক সিএনজি অটোরিকশাচালক বলেন, "দিনের বড় সময় পাম্পেই কেটে যাচ্ছে। আয় অনেক কমে গেছে, কিন্তু গাড়ির মালিককে প্রতিদিনের জমা ঠিকই দিতে হচ্ছে। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।"
যানবাহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগও বেড়েছে। অনেককে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও বাস বা সিএনজি মিলছে না। রাইড শেয়ারিং সেবার গাড়িও সহজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ সুযোগে কিছু সিএনজি চালক অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। ফলে অনেকেই বিকল্প হিসেবে মেট্রোরেলের ওপর নির্ভর করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এর প্রভাবেই সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ কমে এসেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।