‘৪৫০ টাকার গ্যাসে ১৫০ টাকার বাতাস’

 ৪৫০ টাকার গ্যাসে ১৫০ টাকার বাতাস পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন বনশ্রীর প্রাইভেট কার চালক তারেক। গাড়ির গ্যাস নেয়ার জন্য ভোরে গিয়েছিলেন ডেমরার রাসেল সিএনজি পাম্পে এই চালক। ঘণ্টা দেড়েক অপেক্ষার পর ২০০ টাকার গ্যাস পান তিনি৷ এরপর তিনি মালিবাগে আরও ২৫০ টাকার গ্যাস পেয়েছেন। সবমিলিয়ে ৪৫০ টাকার গ্যাস নিয়ে ফিরে আসেন বনশ্রীতে। 

তারেক জানান, গ্যাসের সংকট এখনও কাটেনি। সাড়ে ৪শ’ টাকার গ্যাস নিলেও পুরোপুরি সাড়ে ৪শ’ টাকার গ্যাস তিনি পাননি।

তারেক বলেন, ‘গ্যাসের প্রেসার কম৷ তারপরও যারা পাম্প খোলা রেখেছেন তারা পুরোপুরি গ্যাস দিতে পারেন না। গ্যাসের সঙ্গে বাতাসও ঢুকে। আমি ৪৫০ টাকার গ্যাস নিলেও গ্যাস সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার গ্যাস আছে। আর বাকিটা বাতাস।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গ্যাসের সংকট এখনও চলছে। অনেক সিএনজি পাম্প বন্ধও রয়েছে। রাজধানীর পরীবাগের সিএনজি পাম্পটি বন্ধ পাওয়া যায়। কারওয়ান বাজার কানাডা সিএনজি পাম্পে সকাল সাড়ে ৯ টায় গ্যাস দিতে দেখা যায়। তবে প্রেসার খুবই কম।

সেখানে গ্যাস নেয়া প্রাইভেট কার চালক ওয়াসিম বলেন, ‘২২০ টাকার গ্যাস পেয়েছি। এই ২২০ টাকার গ্যাস দিয়ে কি হবে। সারাদিন চলা যাবে না। ১৫০০ সিসির গাড়িতে কমপক্ষে ৪০০-৫০০ টাকার গ্যাস ওঠাতে পারলে ঢাকায় ঘোরা যাবে। নারায়নগঞ্জ কিংবা গাজীপুরে যাওয়া যাবে। কিন্তু আসার পথে আবার গ্যাস নিতে হবে।’

সিএনজ চালক আব্দুল মালেক বলেন, ‘সিএনজিতে ৫০ টাকার গ্যাস ঢুকেছে। এই গ্যাসে বড় জোর দুইটি ট্রিপ দিতে পারবো। এরপর আবার আসতে হবে।’

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গ্যাস নিয়ে যে কি হচ্ছে এটা বলাই মুশকিল। একবার বলে ২ বছর লাগবে আবার কেউ বলছে ১৫ দিন পর ঠিক হবে। কিন্তু কতদিন লাগবে সেটা কেউ বলে না। আর আমাদের দুঃখ বাড়তেই আছে। আমাদের কষ্ট কেউ দেখে না। ‘

মেরুল বাড্ডার জামান ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ দেখা যায়। বিক্রয়াকর্মীরা জানান, চালু হতে রাত ৯ টা বাজতে পারে। যারা গ্যাস নিতে আসছেন তাদের এমন তথ্য দেয়া হচ্ছে।

তেজগাঁওয়ের আকিজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল থেকে বন্ধ। তবে রাতে চালু হবে কি না এ বিষয়ে নিশ্চিত বলতে পারেননি বিক্রয়কর্মী তারেক।

এ ছাড়া মহাখালী একটি পাম্পে গ্যাস দিতে দেখা যায়। নিকুঞ্জে দুটি পাম্পই বন্ধ চোখে পড়ে। এছাড়াও উত্তরাতে বিমানবন্দরের বিপরীতে গ্যাস দিতে দেখা যায়। তবে প্রেসার খুবই কম ছিল। গাবতলীর দিকেও একই অবস্থা।

চালকরা বলছেন, পরিস্থিতির কোনও উন্নতি নেই। গ্যাস পেলেও কাঙ্ক্ষিত টাকার কোনও গ্যাসই মিলছে না। একবার গ্যাস নিয়ে দুইটা ট্রিপ মারতে গ্যাস শেষ হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে ভাড়ার জন্য পাম্প নাই এমন দিকে যেতেও পারছেন না।

চালকরা জানান, দ্রুত পরিস্থিতি না বদলালে অন্যান্য সেক্টরের মতই পরিবহনেও এর প্রভাব ভয়াবহ আকারে পড়বে।