সংকট সামলাতে চার কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

দেশের বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে চার কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চারটি কার্গোর মধ্যে সর্বোচ্চ দর পড়েছে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৮ দশমিক ০৩ মার্কিন ডলার।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এলএনজি কেনার সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, চারটি এলএনজি কার্গো সরবরাহ করবে আন্তর্জাতিক তিন প্রতিষ্ঠান—আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর, বিপি সিঙ্গাপুর ও ভিটল এশিয়া।

এর মধ্যে আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর দুটি কার্গো সরবরাহ করবে। একটি কার্গোর দাম নির্ধারণ হয়েছে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৭ দশমিক ৫৪ ডলার এবং অন্যটির ২৩ দশমিক ৯৮ ডলার।

বিপি সিঙ্গাপুরের কাছ থেকে কেনা এলএনজির দাম পড়বে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৮ দশমিক ০৩ ডলার। চারটি কার্গোর মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ দর।

অপরদিকে, ভিটল এশিয়ার একটি কার্গোর দাম নির্ধারণ হয়েছে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৬ দশমিক ৬৬ ডলার।

চারটি কার্গোর মধ্যে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দরের ব্যবধান প্রতি এমএমবিটিইউতে ৪ দশমিক ০৫ ডলার। সর্বনিম্ন দর দিয়েছে আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর, ২৩ দশমিক ৯৮ ডলার। সর্বোচ্চ দর বিপি সিঙ্গাপুরের, ২৮ দশমিক ০৩ ডলার।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, সরকারি ক্রয়বিধিমালা অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক দরপত্র পদ্ধতিতে এসব এলএনজি কেনা হচ্ছে।

দেশে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানায়। প্রয়োজনীয় চাপে গ্যাস না পাওয়ায় বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। একইসঙ্গে গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে।

দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ ও চাহিদার ব্যবধান পূরণে আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ও দামে চাপ থাকায় স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি সংগ্রহের ব্যয়ও বেড়েছে।

এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখা এবং শিল্প খাতে গ্যাসের ঘাটতি কমাতে চারটি নতুন এলএনজি কার্গো কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।