‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ প্রচারাভিযানের উদ্বোধন

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং পরিচ্ছন্ন ও ন্যায়ভিত্তিক জ্বালানি ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্যে শুরু হয়েছে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই (রিনিউয়েবলস নাও)’ শীর্ষক মাসব্যাপী প্রচারাভিযান। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ-এর নেতৃত্বে ৩৭টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের যৌথ আয়োজনে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার সিরডাপ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে এ প্রচারাভিযানের উদ্বোধন করা হয়।
 
মাসব্যাপী এ প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি, সাইকেল ও নৌ-র‌্যালি, সড়ক শোভাযাত্রা, উপকূলীয় পদযাত্রা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে উপকূলীয় পদযাত্রারও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
 
‘ধরা’র সহ-আহ্বায়ক এম এস সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএসআরইএর সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, আইইইএফএর বাংলাদেশ বিষয়ক লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম, ঢাকা স্ট্রিমের সম্পাদক ও প্রকাশক গোলাম ইফতেখার মাহমুদ, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার এবং হাওর অঞ্চলবাসীর সমন্বয়কারী জাকিয়া শিশির।
 
জালাল আহমেদ বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির পথে সবচেয়ে বড় বাধা প্রযুক্তি নয়, পরিবর্তনের মানসিকতা। মাতারবাড়ীর মতো বিদ্যমান জমি কাজে লাগিয়ে বড় পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। তাই দ্রুত সৌরবিদ্যুতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
 
এম এস সিদ্দিকী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি শুধু পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয়; এটি জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। সৌর, বায়ু ও বায়োমাসের প্রসার নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
 
শরীফ জামিল বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জনে সুস্পষ্ট পথনকশা, কার্যকর পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রয়োজন। এই পরিবর্তন শুধু সরকারের নয়, সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।
 
মোস্তফা আল মাহমুদ ও শফিকুল আলম বলেন, আমদানিনির্ভরতা কমাতে আগামী তিন-চার বছরের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সহজ অর্থায়ন ও বিনিয়োগবান্ধব নীতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
 
গোলাম ইফতেখার মাহমুদ বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারের পাশাপাশি সৌর প্যানেল ও ব্যাটারির বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
 
ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বায়ুদূষণের কারণে সৌর প্যানেলে ধুলার স্তর বাড়ছে, ফলে এর কার্যক্ষমতা কমছে। দূষণ কমানো গেলে সৌর প্যানেলের কার্যকারিতাও বাড়বে।
 
জাকিয়া শিশির বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি দ্রুত সম্প্রসারণে জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
 
আলোচনায় ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, জনসচেতনতা এবং বৃহত্তর জনসম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।