যুক্তরাষ্ট্র থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান গানভরের সরবরাহ করা প্রথম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কার্গো দেশে এসেছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সামিটের টার্মিনালে নোঙর করা কার্গোটি থেকে এলএনজি খালাস শুরু হয়েছে।
এই কার্গো থেকে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ ঘনমিটার এলএনজি খালাস করা হবে।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে কার্গোটি থেকে এলএনজি খালাসের কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় গানভোরের সরবরাহ করা এটিই প্রথম কার্গো। এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বরও একটি এলএনজি কার্গো দেশে এসেছিল। পরপর দুটি কার্গো আসায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
চলতি মাসে মোট ৯টি এলএনজি কার্গো আসার নিশ্চয়তা মিলেছে। এর মধ্যে আরামকোর দুটি এবং ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম ও পস্কোর একটি করে মোট চারটি কার্গো ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে। ১৭ সেপ্টেম্বর গানভরের কার্গো এসেছে। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর আরামকো, ২৩ সেপ্টেম্বর টোটালএনার্জি, ২৫ সেপ্টেম্বর আরামকো এবং ২৮ সেপ্টেম্বর গানভর থেকে একটি করে আরও চারটি কার্গো আসার কথা রয়েছে।
জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ
পেট্রোবাংলার ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৬০৫ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ করা হয়েছে ১ হাজার ৬১২ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি থেকে পাওয়া গেছে ৯৯৩ মিলিয়ন ঘনফুট।
এর আগের দিন ১৬ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪টায় জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৬০৬ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ ছিল ১ হাজার ৬১৭ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এলএনজি থেকে পাওয়া গেছে ৯৯৩ মিলিয়ন ঘনফুট।
শিল্পে কিছুটা উন্নতি, আবাসিকে সংকট অব্যাহত
গ্যাস সরবরাহ বাড়ায় শিল্প খাতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চলে খোঁজ নিয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির পরিমাণ এবং বিভিন্ন খাতে বিতরণের কারণে আবাসিক গ্রাহকদের পরিস্থিতিতে এখনও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি।
রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় গ্যাসের সংকট পুরোপুরি কাটেনি। কোথাও দিনের বেলা গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়লেও অনেক এলাকায় এখনও চুলা জ্বলছে না। ফলে রান্নাবান্নায় ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও গ্যাসের চাপ ও সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতি।