পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে প্রথমবারের মতো এই বিক্রিয়া শুরু হয় বলে জানিয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে বিক্রিয়ার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাসহ আরও কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বিক্রিয়ার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে। এরপর ধাপে ধাপে কেন্দ্রটির বিভিন্ন পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটমের প্রত্যাশা, প্রথম ইউনিটে আগামী ২০ নভেম্বর থেকে নভেম্বরের শেষের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে।
মস্কোয় বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান রোসাটমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আলেক্সেই লিখাচেভ। প্রথম ইউনিট কবে চালু হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের ধারণা ২০ নভেম্বর থেকে মাসের শেষের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে।
লিখাচেভ বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর এই প্রত্যাশা প্রকল্পটি সম্প্রসারণের আগ্রহও তৈরি করেছে। এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের।
চলতি বছরের এপ্রিলের শেষ দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি লোড করার মধ্য দিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু করে রোসাটম। ইউনিটটি চালুর গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের প্রথম ধাপ ছিল এটি। রবিবার ইউনিটটিতে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক বিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের আগে আরও কয়েকটি ধাপ বাকি রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।
প্রসঙ্গত, রূপপুর বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। কেন্দ্রটিতে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হয়েছে। দুটি ইউনিট চালু হলে কেন্দ্রটি থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।