এরা গুজব ছড়ায় না...

গোলাম মোর্তোজাকোনও গণমাধ্যমের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে লেখা খুবই কষ্টকর। বিশেষ করে সেই গণমাধ্যমের সঙ্গে নিজের কোনও না কোনওভাবে যদি সম্পৃক্ততা থাকে। নিজেদের সম্পাদনার পত্রিকা ছাড়া এর আগে কখনও নিয়মিত কোথাও লিখিনি। এই প্রথম একটি অনলাইন গণমাধ্যমে নিয়মিত লিখছি। ভেবে নিজের কাছেই বিস্ময় জাগে। একটি লেখা কত মানুষ পড়েন আমার কোনও ধারণা নেই। তবে কোনও কোনও লেখা যখন দেখি দশ পনেরো হাজার শেয়ার হয়ে যায়, তখন অবিশ্বাস্য মনে হয়।
বলছি বাংলা ট্রিবিউন-এর কথা। বাংলা ট্রিবিউন দ্বিতীয় বছর অতিক্রম করে তৃতীয় বছরে পদার্পণ করছে। দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কী লিখব? প্রশংসা করব? বলব বাংলা ট্রিবিউন একটি ভালো অনলাইন পত্রিকা? হ্যাঁ, এটুকুই লেখা যায়। আর তো কিছু লেখার নেই! সমালোচনা করব? চিন্তা করলাম, তেমন কিছু খুঁজে পেলাম না। কিছুদিন আগে সমালোচনার একটি সুযোগ ছিল, তাও পরিবর্তন করে ফেলা হয়েছে। বিশ্লেষণমূলক লেখাগুলো প্রথম অংশ পরবর্তী অংশ নামে যখন ভাগ করে ছাপা হচ্ছিল, শুধু লেখক হিসেবে নয়, পাঠক হিসেবে বিরক্ত হচ্ছিলাম। শেরিফ আল সায়ারকে জানিয়েছিলাম আমার অভিমত। নিশ্চয়ই আরও অনেকে এমন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। কর্তৃপক্ষ সেই অবস্থান থেকে সরেও এসেছে। এ জন্যে তাদের ধন্যবাদ জানাই। এখনও লেখার মাঝে আরও পড়তে পারেন বারবার অন্য লেখার লিংক দেওয়াটা কতটা যৌক্তিক কর্তৃপক্ষকে ভেবে দেখতে অনুরোধ করব। পাঠক হিসেবে আমার কাছে মনে হয়, একটি লেখা পড়ার ক্ষেত্রে অন্য লেখার লিংক- মনোযোগে বিঘ্ন ঘটায়। লিংকগুলো লেখার নিচে দেওয়া যেতে পারে। এটাই তো সবচেয়ে বড় সত্যি যে, পাঠককে কিছু জোর করে পড়ানো যাবে না। তার যেটা ভালো লাগবে, সেটাই পড়বেন। অন্য কিছু তাকে সর্বোচ্চ দেখানো যেতে পারে।

আরও পড়তে পারেন: অভিনন্দনে কৃতজ্ঞচিত্তে ভাসছে বাংলা ট্রিবিউন

২. বাংলা ট্রিবিউনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক মাঝেমধ্যেই তাৎক্ষণিক কিছু অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। বিশেষ করে সাংবাদিক হারুন উর রশীদ এমন কিছু প্রতিবেদন করেন, যা সমাজের অনেক বিভ্রান্তি দূর করার ক্ষেত্রে সহায়তা করে। সীমান্তে বিএসএফকে গুলি করার নির্দেশ ভারতীয় সরকার দিয়ে রেখেছে- ভারতীয় মানবাধিকার কর্মীর সাক্ষাৎকারের মধ্য দিয়ে বাংলা ট্রিবিউন যখন সংবাদ প্রকাশ করে, তখন অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলে। বাংলা ট্রিবিউন গুজব ছড়ায় না। অনুসন্ধান করে গুজব অবসানে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করে বলে পাঠক হিসেবে আমার কাছে মনে হয়। যা একটি গণমাধ্যমের অন্যতম দায়িত্ব। বাংলা ট্রিবিউন যোগ্যতার সঙ্গে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে, একটি সক্ষম প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে সেই প্রত্যাশা।

লেখক: সম্পাদক, সাপ্তাহিক