ধূসর শৈশবের অদৃশ্য কফিন

একটি শিশু যখন জন্ম নেয়, সে পৃথিবীর আলো-বাতাসের সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি অকৃত্রিম আস্থা নিয়ে বেড়ে ওঠে। কিন্তু আমরা সুপরিকল্পিতভাবে সেই আস্থার জায়গাটিকে এক ভয়ংকর বধ্যভূমিতে পরিণত করেছি। কোনও শিশু নির্যাতনের শিকার হলে কেবল তার শরীর ক্ষতবিক্ষত হয় না; তার ভেতরের মানবতা ও বিশ্বাসের মৃত্যু ঘটে। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয়, স্যাংচুয়ারি ট্রমা বা নিরাপদ আশ্রয়ের রূপান্তর। সমাজ আজ সেই ট্রমার কারখানায় পরিণত হয়েছে। আমরা এমন এক বিকলাঙ্গ সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছি, যেখানে শিশুর দুর্বলতাকে রক্ষার বদলে শোষণের হাতিয়ার হিসেবে দেখা হয়। এটি কেবল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নয়; এটি সভ্যতার এক চূড়ান্ত পতন, যেখানে রক্ষকেরাই সবচেয়ে বড় ভক্ষকের রূপ ধারণ করেছে এবং রাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তা দিতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

পরিসংখ্যানগুলোকে কেবল সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই; এগুলো আমাদের ঘুমন্ত বিবেকের ওপর এক একটি নির্দয় চাবুক। মানবাধিকার সংস্থা আসক এবং পুলিশ সদর দফতরের ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসের তথ্য বলছে, সারা দেশে ১৫৫ জন শিশু নির্মমভাবে হত্যার শিকার হয়েছে। শারীরিক নির্যাতনে ৬৮ জন এবং পারিবারিক কলহের জেরে ৪৯ জনের মৃত্যু প্রমাণ করে, ঘরের ভেতরটাও আজ কতটা অনিরাপদ। ধর্ষণের পর ২৬ জন শিশুকে হত্যার ঘটনা আমাদের চরম বিকৃত মানসিকতার বিস্তারকে স্পষ্ট করে। যখন পড়ি যে, প্রথম সাত মাসেই ১৫ হাজার ৭১৭ জন শিশু নিখোঁজ হয়েছে এবং ২ হাজারের বেশি শিশুর কোনো খোঁজ নেই, তখন এই ভয়াবহ নিস্তব্ধতা আমাদের প্রত্যেককে চূড়ান্তভাবে অপরাধী করে তোলে।

সংক্রমণশীল সহিংসতার মনস্তত্ত্ব

সমাজবিজ্ঞানী ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সহিংসতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি একটি সংক্রমণশীল ব্যাধির মতো কাজ করে। আমেরিকান জার্নাল অব পাবলিক হেলথ-এ প্রকাশিত ‘কিউর ভায়োলেন্স’ মডেলে ড. গ্যারি স্লাটকিন দেখিয়েছেন যে, সহিংসতা একটি সামাজিক মহামারি। আমাদের সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সামাজিক অবক্ষয় থেকে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে যে হতাশার জন্ম হয়, তা তারা ওপরের দিকে প্রকাশ করতে পারে না। ফলে সেই জমে থাকা ক্ষোভ খুব সহজেই গিয়ে আছড়ে পড়ে সমাজের সবচেয়ে প্রতিরক্ষাহীন, শিশুদের ওপর। প্রাপ্তবয়স্কদের এই সামষ্টিক ট্রমা আজ এমন এক বিষাক্ত পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে শিশুর ওপর আধিপত্য বিস্তার করাটাই যেন নিজেদের হতাশা ঢাকার একমাত্র উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই বিষাক্ত পরিবেশ এখন রূপ পরিবর্তন করে নতুন প্রজন্মের ভেতরেও সংক্রমিত হয়েছে, যা কিশোর গ্যাং এবং সমবয়সীদের মধ্যকার সহিংসতার মাধ্যমে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে ১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের নিখোঁজ হওয়া এবং সমবয়সী কিশোরদের দ্বারা তার হত্যার ঘটনাটি আমাদের সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ ব্যর্থতার প্রামাণ্য দলিল। রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া, ভার্চুয়াল জগতের অন্ধকার গলিতে অবাধ বিচরণ এবং পেশিশক্তি প্রদর্শনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা কিশোরদের হৃদয় থেকে সমমর্মিতা পুরোপুরি মুছে দিয়েছে। আমরা তাদের সামনে সুস্থ সাংস্কৃতিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক আদর্শ দাঁড় করাতে পারিনি। ফলশ্রুতিতে, সেই শূন্যস্থান পূরণ করেছে এক বিকৃত ও সহিংস ভোগবাদ, যেখানে একটি শিশুর প্রাণ কেড়ে নেওয়াকেও তারা অপরাধ গণ্য করছে না। কিশোররা আজ ক্ষমতাহীন ফ্রাঙ্কেনস্টাইনে পরিণত হচ্ছে।

আইনি সুরক্ষার মরীচিকা

আমরা প্রায়শই আইনের বইয়ের দিকে তাকিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগি, কিন্তু আইন প্রণয়ন আর বাস্তবায়নের মধ্যকার যোজন দূরত্বকে সচেতনভাবেই এড়িয়ে যাই। ২০১৩ সালের শিশু আইনের ৭০ ধারা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে শিশুর প্রতি অবহেলা এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করেছে। কিন্তু আইনের প্রয়োগ নেই বললেই চলে। বিচারিক ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় আইনি শূন্যতা হলো, উন্নত দেশগুলোর মতো আমাদের কোনো ‘ম্যান্ডেটরি রিপোর্টিং ল’ নেই, যার অধীনে শিক্ষক বা চিকিৎসকদের শিশু নির্যাতনের সন্দেহ হলে রাষ্ট্রকে জানাতে বাধ্য করা যায়। পারিবারিক সম্মান নষ্ট হওয়ার ভয় এবং আইনি দীর্ঘসূত্রতার কারণে শিশু নির্যাতনের ঘটনাগুলো ধামাচাপা পড়ে যায়। আমাদের আইনি কাঠামো তাত্ত্বিকভাবে ন্যায়বিচারের কথা বললেও বাস্তবে শিশুদের সুরক্ষা দিতে চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে।

উচ্চ আদালত বিভিন্ন সময় যুগান্তকারী রায় দিয়ে এই আইনি শূন্যতা পূরণের চেষ্টা করলেও, রাষ্ট্রযন্ত্রের চরম উদাসীনতায় তা বারবার মুখ থুবড়ে পড়েছে। ২০১১ সালে হাইকোর্ট (রিট পিটিশন নম্বর ৫৬৮৪/২০১০) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সব ধরনের শারীরিক শাস্তি সম্পূর্ণ অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন। সাম্প্রতিককালে, ২০১৮ সালের একটি রিটের চূড়ান্ত আদেশে হাইকোর্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং ও র‍্যাগিং প্রতিরোধে ১৭ দফা নির্দেশনা জারি করেন, যা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পূর্ণাঙ্গ আইনের মর্যাদা পায়। এতে বুলিং প্রতিরোধ কমিটি ও পেশাদার কাউন্সিলর নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু একটি স্বাধীন ও কার্যকর তদারকি কাঠামোর অভাবে ঐতিহাসিক রায়গুলো কেবল নথিপত্রেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। শিশু কল্যাণ পুলিশ কর্মকর্তার (সিডব্লিউপিও) পদ সৃষ্টি করা হলেও প্রশিক্ষণের অভাবে তা থানায় নামমাত্র পদে পরিণত হয়েছে।

খণ্ডিত উদ্যোগের বিপরীতে সমন্বিত সমাধান

এই সহিংসতার সংস্কৃতি ভেঙে নিরাপদ সমাজ গড়তে হলে খণ্ডিত উদ্যোগের বদলে বৈশ্বিক সফল মডেলগুলোর দিকে তাকাতে হবে এবং সেগুলোকে দেশীয় আইনি প্রেক্ষাপটে কাজে লাগাতে হবে। যুক্তরাজ্যের ‘মাল্টি-এজেন্সি সেফগার্ডিং হাবস’ (এমএএসএইচ) মডেল এবং ইউরোপের নর্ডিক দেশগুলোর ‘বারনাহাস’ বা চিলড্রেনস হাউস কনসেপ্ট আমাদের জন্য চমৎকার আইনি ও পদ্ধতিগত সমাধান হতে পারে। আমাদের দেশে নির্যাতিত শিশুকে থানা, হাসপাতাল আর আদালতের চক্করে পড়ে বারবার যে মানসিক ট্রমার শিকার হতে হয়, এই মডেলগুলোতে তা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। সেখানে পুলিশ, শিশু বিশেষজ্ঞ, সমাজকর্মী এবং মনস্তাত্ত্বিকেরা একই ছাদের নিচে সংবেদনশীল পরিবেশে কাজ করেন এবং একবারই জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। প্রতিটি জেলায় এমন সমন্বিত ‘শিশু সুরক্ষা কেন্দ্র’ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি, যা ভুক্তভোগী শিশুকে মানসিক নিরাময়ও দেবে।

সামাজিক ও কমিউনিটি পর্যায়ে শিশুদের নিশ্ছিদ্র সুরক্ষার জন্য আমরা জাপানের ‘কোদোমো ১১০-বান নো ইয়ে’ মডেলটির সফল প্রয়োগ করতে পারি। এই ব্যবস্থায় স্থানীয় কমিউনিটির নির্দিষ্ট কিছু দোকান, বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানকে হলুদ রঙের স্টিকারের মাধ্যমে ‘সেইফ হাউস’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বিপদে পড়লে বা আতঙ্কিত বোধ করলে যেকোনও শিশু সেখানে আশ্রয় নিতে পারে এবং সেখান থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়। ইউনিসেফ-এর সহায়তায় বাংলাদেশে ইতিমধ্যে যে ২ হাজার ১৭০টি ‘চাইল্ড প্রোটেকশন কমিউনিটি হাব’ গড়ে উঠেছে, সেগুলোর সঙ্গে জাপানের এই মডেলের সরাসরি সমন্বয় ঘটিয়ে পাড়া-মহল্লায় অভেদ্য সুরক্ষাবলয় গড়া সম্ভব। এই কমিউনিটি ভিত্তিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আগেই নস্যাৎ করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম, যা পুলিশি ব্যবস্থার চেয়েও বেশি কার্যকরী।

এ ছাড়া, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রণীত ‘ইনস্পায়ার’ ফ্রেমওয়ার্ক আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির কাঠামোগত পরিবর্তনে সাহায্য করতে পারে। এই ফ্রেমওয়ার্কটি শিশু নির্যাতনকে কেবল অপরাধ হিসেবে না দেখে একটি মারাত্মক জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে বিবেচনা করে। এখানে কেবল শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক মূল্যবোধের আমূল পরিবর্তনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রকে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও জোরালো ‘পজিটিভ প্যারেন্টিং’ বা ইতিবাচক অভিভাবকত্ব ক্যাম্পেইন শুরু করতে হবে। ঘরের ভেতরে শাসন করার নামে শারীরিক আঘাত করার যে সামাজিক বৈধতা রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে আছে, তা সমূলে উৎপাটন করে আলোচনার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্যের এই সামগ্রিক রূপান্তর ছাড়া আইন দিয়ে শিশুদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

বিচারিক সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি

বৈশ্বিক ধারণাগুলোকে বাংলাদেশের বাস্তবতায় প্রয়োগ করতে হলে নীতিনির্ধারকদের দ্রুত কিছু সুনির্দিষ্ট, আইনি ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রথমত, অবিলম্বে একটি জাতীয় ‘ম্যান্ডেটরি রিপোর্টিং অ্যাক্ট’ প্রণয়ন করতে হবে, যাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা হাসপাতালে শিশু নির্যাতনের আলামত পেলেই কর্তৃপক্ষ জানাতে বাধ্য থাকে। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি জেলায় একটি করে ‘ডেডিকেটেড শিশু সুরক্ষা ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করতে হবে, যাদের কাজ হবে চরম সহিংসতার মামলাগুলো সর্বোচ্চ তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করা। বিচার চলাকালীন শিশুর পরিচয় ও মানসিক অবস্থা সুরক্ষার জন্য ‘ইন-ক্যামেরা ট্রায়াল’ বা রুদ্ধদ্বার বিচারপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। এটি অপরাধীদের কাছে কঠোর বার্তা পৌঁছে দেবে যে, রাষ্ট্র কোনোভাবেই দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ নিতে দেবে না। দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়াই হবে অপরাধ প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষেধক।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে একটি স্বাধীন ‘জাতীয় মনিটরিং সেল’ গঠন করতে হবে, যাদের কাজ হবে বুলিং প্রতিরোধে উচ্চ আদালত প্রদত্ত ১৭ দফা নির্দেশনার কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। দেশের প্রতিটি স্কুল-মাদ্রাসায় পেশাদার সাইকোলজিক্যাল কাউন্সিলর নিয়োগের বিষয়টিকে আর অর্থনৈতিক বোঝা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে, পুলিশ সদর দফতরের অ্যান্টি-হিউম্যান ট্রাফিকিং ইউনিটের অধীনে একটি বিশেষায়িত ‘মিসিং চাইল্ড টাস্কফোর্স’ গঠন করতে হবে। সনাতনী তদন্তের বাইরে এসে এই আধুনিক টাস্কফোর্স অত্যাধুনিক সাইবার ট্র্যাকিং এবং কমিউনিটি সোর্সিং ব্যবহার করে নিখোঁজ শিশুদের দ্রুততম সময়ে উদ্ধার করার কাজ করবে। গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজকেও নিরবচ্ছিন্ন ও দায়বদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে। সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে ‘ভিকটিম ব্লেমিং’ বা ভুক্তভোগীর পরিবারকে দোষারোপ করার অপসংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

মানবিক মানচিত্রের খোঁজে

আমরা আজ এক চরম নৈতিক ও মানবিক শূন্যতার দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছি, যেখানে আমাদের হাতে একেবারেই সময় অবশিষ্ট নেই। কোনো রাষ্ট্রের প্রকৃত চরিত্র তার মেগাপ্রকল্প, জিডিপির প্রবৃদ্ধি বা চকচকে উঁচু দালান দিয়ে মাপা যায় না; একটি রাষ্ট্র কতটা সভ্য তা নির্ভর করে সমাজের সবচেয়ে দুর্বল শিশুটিকে কতটা নিরাপত্তা দিতে পেরেছে তার ওপর। শিশুদের কোলাহলমুখর শৈশবকে আমরা এক ধরনের দীর্ঘস্থায়ী ময়নাতদন্তের টেবিলে পরিণত করেছি, আর এই রক্তের দায় কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আক্ষেপ দিয়ে মেটানো সম্ভব নয়। রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবার; সবাইকে এক কঠিন আত্মোপলব্ধির মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে। শিশুদের জন্য এমন একটি নিরাপদ মানচিত্র গড়তে হবে, যেখানে কোনো শিশুর হাসিমাখা মুখ আর কখনো আতঙ্কে নীল হয়ে যাবে না।

লেখক: একজন আইন গবেষক