ইউপি নির্বাচন

মানিকগঞ্জে বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগ







ইউপি নির্বাচন-২০১৬পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জে কয়েকটি উপজেলায় সরকারি দলের সমর্থকদের বিরদ্ধে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি সরকার দলীয় প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি ও মারধরও করছেন বলেও অভিযোগ করছেন তারা।
গত শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে দিঘি ইউনিয়ন পরিষদের বিএনপি সমর্থীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মতিয়ার রহমান ও কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের বিএনপি মনোনয়ন প্রার্থী হাজি মো. আদম আলী জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, প্রধান নির্বাচন কমিশন ও জেলা নির্বাচন কমিশনের লিখিত অভিযোগ করেছেন। এছাড়া জেলা বিএনপি’র পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে বিএনপির মনোনয়ন প্রার্থী হাজী মো. আদম আলী লিখিত অভিযোগে বলেছেন, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করে গিলন্ড যাওয়ার জন্য যাত্রীবাহী বাসে ওঠেন। এ সময় কয়েকটি মটর সাইকেল ও সিএনজিতে ১০-১৫ জন যুবক রহমান ফিলিং স্টেশনের সামনে বাসটির গতিরোধ করে তাকে বেধরক মারপিট করে। পরে সেখান থেকে তাকে জোর করে একটি মটর সাইকেলে করে এনে জেলা ক্রীড়া সংস্থায় দোতলায় আটকে রাখে। এর আগে তার কাছ থেকে মনোনয়ন ফরম, মোবাইল ফোন ও পকেটে থাকা ১৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা। ক্রীড়া সংস্থায় নেওয়ার পর সেখানে কয়েক নেতা তাকে ব্যাপক হুমকি দেয়। প্রায় ৪ ঘণ্টা আটকে রাখার পর জাগীর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেনের হস্তক্ষেপে ছাড়া পান তিনি।
এরপর ওই যুবকরাই দিঘি ইউনিয়ন পরিষদের বিএনপি মনোননীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মতিয়ার রহমান মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে জেলা প্রসাসকের স্থানীয় সরকার বিভাগে গেলে তাকেও একইভাবে তুলে নিয়ে আটকে রেছে ফরম ছিনিয়ে নেয়।
মতিয়ার রহমান তার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ্য করেন,ট্রেজারি চালান নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে থেকে মনোনয়ন ফরম নিতে গেলে ৫০-৬০ জন যুবক তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ক্রীড়া সংস্থায় তুলে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে আটকে রেখে ট্রেজারি চালান ছিনিয়ে নেয়। এরপর তার পক্ষে ওই ট্রেজারি চালান জমা দিয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে সেই ফরম তারা নিজেদের কাছে রেখে দেয়। এ সময় তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নির্বাচন না করা জন্য চাপ দেয়।
এদিকে এই দুটি ইউনিয়নের পশাপাশি সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থীত প্রার্থী সহিদুদ্দিনকে নির্বাচন থেকে সড়ে দাড়াঁনোর জন্য ভয়ভীতি ও হুমকি ধামকি দেওয়া হয়েছে। তার ভাতিজা তোফায়েল হোসেনকে দিয়ে নিজের মনোনয়ন ফরম উত্তোলনের পর ভাতিজাকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়। পরে তার বাড়িতে তল্লাসী চালানো ও ভয় দেখালে পরে তার মনোনয়ন ফরম ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সহিদুদ্দিন বলেন, নির্বাচনের কোনও পরিবেশ নেই। এছাড়া আমার জীবনের কোনও নিরাপত্তা না থাকার কারণে তিনি নির্বাচনে যাবেন না।
জাগির ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থীত চেয়ারম্যান প্রার্থী সেলিম মিয়াকে মনোনয়ন জমা না দেওয়ার জন্য বিপুল সংখ্যক সরকার দলীয় লোকজন বাড়ি গিয়ে হুমকি ধামকি ও ভয়ভীতি দেখিয়েছেন।
জেলা বিএনপি’র পক্ষ থেকে এসব ঘটনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনের একটি লিখিত অভিযোগ করেছে। জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এ জিন্নাহ কবীরের স্বাক্ষরিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২০ এপ্রিল থেকে কিছু সন্ত্রাসী মাস্তান প্রকৃতির লোকজন দিয়ে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাচন অফিস ও জেলা নির্বাচন অফিসের আশ পাশের সকল পথে পাহাড়া বসানো হয়েছে। যাতে বিএনপির কোনও প্রার্থী মনোনয়ন ফরম উত্তলন করতে না পারে।
মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপি সভাপতি আফরোজা খান রিতা বলেন, আওয়ামী ক্যাডাররা কয়েকটি ইউনিয়নে আমাদের দলীয় প্রার্থীকে তুলে নিয়ে জোর করে মনোনয়ন ছিনিয়ে নেয়ার পাশাপাশি মারধর করেছে এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছেন। যাতে তাদের দলের কোনও প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে।
এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন অফিসার মো. মুনীর হোসাইন বলেন, তারা অভিযোগ পেয়েছেন। তবে যাদের মনোনয়ন পত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে তারা আবেদন করলে আবার মনোনয়ন ফরম দেওয়া হবে।
জেলা পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
/বিটি/এসএনএইচ/