প্রধানমন্ত্রী শনিবার বিকালে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ সরকারি কলেজ মাঠে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর এ মতবিনিময় সভা কর্মীসভায় পরিণত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন,বাংলাদেশ সন্ত্রাসের দেশ নয়। এখানে সন্ত্রাসীদের কোন ঠাঁই হবে না। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না।
বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের নামে তারা মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে। গাড়ি, মসজিদ, মন্দির, গির্জা পুড়িয়েছে। পুরোহিত ও শিক্ষকদের হত্যা করে তারা দেশকে অস্থিতিশীল করে সরকারকে উৎখাত করতে চেয়েছিলো। এভাবে সরকার উৎখাত করা যায় না। এখন আবার তারা দেশে গুপ্ত হত্যা শুরু করেছে। পরিকল্পিতভাবে তারা এ গুপ্ত হত্যা চলাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন,বিএনপি-জামায়াত দেশের বিদ্যুৎ খাত ধ্বংস করে দিয়েছিলো। তারা বিদ্যুৎ উৎপাদন ৩ হাজার মেগাওয়োটে নামিয়ে এনেছিলো। আমরা ১৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছি। ২০২১ সালের মধ্যে আমরা দেশের প্রত্যেক ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবো।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে সব উপজেলায় সরকারি স্কুল-কলেজ নেই,সেখানে সরকারি স্কুল-কলেজ করা হবে। শিক্ষকদের বেতন বাড়ানো হয়েছে। প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। যাতে তারা ছেলে-মেয়েদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারেন। শিক্ষার্থীদের অনেক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ওই সব সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাদের প্রকৃত মানুষ হওয়ার আহবান ও জানান তিনি।
কৃষকদের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন,কৃষকদের উন্নত সার ও বীজ দেওয়া হচ্ছে,যাতে তারা ভাল ফসল ফলাতে পারেন। তাদের ১০ টাকা বিনিময়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের কৃষি ঋণ দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য,স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি,এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহম্মদ, লে. কর্ণেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ মো. আব্দুল্লাহ, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এস এম কামাল,ঊম্মে রাজিয়া কাজল এমপি,জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান,উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বিমল কৃষ্ণ বিশ্বাস,পৌর মেয়র এইচ এম অহিদুল ইসলামসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র জয়ধর সভাপতিত্ব করেন।
উপজেলার আওয়ামী লীগের আয়োজনে এই মতবিনিময় সভা বিশাল সভায় পরিণত হয়। বৈশাখের প্রচণ্ড গরমকে উপেক্ষা করে হাজার হাজার নারী-পুরুষ তাদের প্রিয় নেত্রীকে দেখার জন্য শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ সরকারি কলেজ মাঠে ছুটে আসেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে কোটালীপাড়ায় সড়কগুলো বর্নিল পতাকা দিয়ে সাজানো হয়। গোপালগঞ্জ কোটালীপাড়া সড়কে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে অসংখ্য তোরণ নির্মাণ করা হয়।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী কোটালীপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন। পরে তিনি সেখানে কোটালীপাড়ার ১০০টি প্রাথমিক ও ১৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ এবং মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর বিতরন করেন। বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জ হেলিপ্যাড থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।
/এমপি/ এমএসএম/