প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর খুলনা ও যশোর অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের অবরোধ, ধর্মঘটসহ বিক্ষোভ প্রত্যাহারের এক মাস পেরিয়ে গেছে। চলে গেছে পহেলা বৈশাখ ও মে দিবস। কিন্তু এখনও পাটকল শ্রমিকদের জন্য প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত এক হাজার কোটি টাকা ছাড় করেনি অর্থ মন্ত্রণালয়। পাওনা পরিশোধ না হওয়ায় খুলনা ও যশোরের শিল্পাঞ্চল আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ ননসিবিএ ঐক্য পরিষদ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ৭ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক সোহরাব হোসেন বুধবার সকাল ১১টায় খালিশপুর চিত্রালী মোড়ে জুট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন এই আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন।
ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক খুলনার প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলের সিবিএ সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান এর আগে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পাটমন্ত্রীর ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবতার কোনও মিল নেই। ফলে ঘোষণার এক মাস পার হয়ে গেলেও অর্থ ছাড় না হওয়ায় সব বকেয়া পরিশোধ হয়নি।তিনি বলেন, শুরুতে দু’শ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। তার মধ্যে একশ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে মিলগুলোতে পাট কেনাসহ উন্নয়ন কাজে। আর ৬০ কোটি টাকা দিয়ে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ৪০ কোটি টাকা দিয়ে শ্রমিকদের ২০০৮-২০০৯ ও ২০০৯-২০১০ অর্থবছরের গ্রাচ্যুইটি পরিশোধ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে শ্রমিকদের ২০ ভাগ মহার্ঘ ভাতা, আন্দোলনসহ ওই সময়ে ১২ দিনের বকেয়া, ২০১১-২০১২ অর্থবছর থেকে এ পর্যন্ত গ্রাচ্যুইটির অর্থ এবং এক সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে।
উল্লেখ্য, শ্রমিকদের লাগাতার ধর্মঘট ও রাজপথ-রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে গত ১১ এপ্রিল সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠকে আন্দোলনরত পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া বাবদ এক হাজার কোটি টাকা ছাড় করার জন্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে ৬০০ কোটি টাকা পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি হিসেবে দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৩০০ কোটি টাকা পহেলা বৈশাখ উৎসবের আগেই পরিশোধ করতে বলা হয়। বাকি ৩০০ কোটি টাকা পর্যায়ক্রমে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া কাঁচা পাট ক্রয়ের জন্য ২০০ কোটি টাকা এবং পাটশিল্পের উন্নয়নের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হয়। একইসঙ্গে পুরো বিষয়টি তদারকি করতে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। ১১ এপ্রিল মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা শেষে এ ঘোষণা দেয় সরকার। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশের পরও শ্রমিকরা আন্দোলন অব্যাহত রাখে। এরপর ১২ এপ্রিল সচিবালয়ে পাটকল শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে পাটমন্ত্রী মুহা. ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক ও ১৩ এপ্রিল পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের সঙ্গে বৈঠকে সব বকেয়া ২৫ এপ্রিলের মধ্যে পরিশোধ করা হবে বলে জানানো হয়। এরপরই শ্রমিকরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পুরো টাকা এখনও ছাড় করা হয়নি। এ পর্যন্ত মাত্র ২০০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। বাকি ৮০০ কোটি টাকা ছাড়ের বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিল সিবিএ-ননসিবিএ ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক সোহরাব হোসেন বলেন, আন্দোলনরত শ্রমিকদেরকে আবারও আশ্বাসের নামে রাজপথ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু শ্রমিকদের দাবির প্রতি সুবিচার করা হয়নি। নেতারা মন্ত্রণালয় ও বিজেএমসিতে নিয়মিত যোগাযোগ করেও এ ব্যাপারে কোনও সুরাহা করতে পারেননি। এ অবস্থায় শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে আন্দোলনের কোনও বিকল্প নেই।
আরও পড়ুন-
পাবনায় লোডশেডিং: ইরি-বোরো খেতে সেচ সংকট, জনজীবন দুর্বিষহ
নেপালে ৫৬টি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার চেয়েছে বাংলাদেশ
/বিটি/এফএস/