বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু বড় ধরনের ক্ষয়-ক্ষতি ছাড়াই শনিবার উপকূলীয় এলাকা অতিক্রম করেছে। তবে শুক্রবার থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত টানা বৃষ্টিপাতের ফলে বাগেরহাটের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। লোকজন আশ্রয় কেন্দ্র থেকে বাড়ি-ঘরে ফিরতে শুরু করলেও রবিবার দুপুর পর্যন্ত খোলা থাকবে কন্ট্রোল রুম।
বৃষ্টিপাতে প্রভাবে শরণখোলা উপজেলার বলেশ্বর তীরবর্তী বেড়িবাঁধের তাফালবাড়ি পয়েন্টের কয়েকটি স্থানে ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মো. জাহাংগীর আলম জেলার মোড়েলগঞ্জ ও শরনখোলা উপজেলার সাউথখালী এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেশ্বর তীরবর্তী বেড়িবাঁধের তাফালবাড়ি পয়েন্টের ভাঙন কবলিত এলাকাও ঘুরে দেখেন।
জেলা প্রশাসক জানান, ঘুর্ণিঝড় রোয়ানুর কারণে বড় ধরনের ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি এই জেলায়। শরণখোলা ও মংলার কয়েকহাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তারা বাড়ি-ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। রবিবার দুপুর পর্যন্ত কন্ট্রোলরুম খোলা থাকবে।
আরও পড়ুন: রোয়ানুর আঘাতে উপকূল লণ্ডভণ্ড, নিহত ২৪
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোয়ানুর প্রভাবে গত দুই দিনের টানা বর্ষণে জেলার কিছু নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। গত ৩৬ ঘণ্টায় জেলায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৮৫ মিলিমিটার। তবে তাতে ফসলের কোনও ক্ষতি হয়নি।
বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে জেলার বেশ কয়েকটি বেড়িবাঁধ কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে শরণখোলা উপজেলার তাফালবাড়ি এলাকায় বেড়িবাঁধের কিছু এলাকা ভেঙে পড়েছে। তবে লোকালয় এখনও প্লাবিত হয়নি। বাঁধটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, দুর্যোগ পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা সতর্ক রয়েছি।
উপকূলীয় শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডরে তার ইউনিয়নে প্রায় ৭০০ মানুষের প্রাণহানি হয়। এজন্য দুর্যোগ আসলে এই এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। রোয়ানুর পূর্বাভাস দেওয়ার পর এখানকার ১১ আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় সাত হাজার মানুষ আশ্রয় নেয়। খবর বাসস।
/এসটি/