রোয়ানুর আঘাত: কক্সবাজারের গ্রামে জোয়ার-ভাটা!

কক্সবাজারের গ্রামে জোয়ার-ভাটাঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে কক্সবাজার জেলার ২০টি গ্রামে এখন চলছে জোয়ার-ভাটা। অতিরিক্ত জলোচ্ছ্বাসে উকূলীয় অঞ্চলের বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত হওয়ায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সরকারিভাবে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে দুর্ভোগ পোহাতে হবে এসব গ্রামের বাসিন্দাদের।
গত শনিবার কক্সবাজার জেলার ওপর বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে জেলার উপকূলী অঞ্চল। বিশেষ করে কুতুবদিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া, চকরিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ২৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত হয়েছে। ফলে বেড়িবাঁধ উপছে এখন সেখানে চলছে জোয়ার-ভাটা।
জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর কারণে কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া কৈয়ারবিল, লেমশি খালী, উত্তর ধুরুং ও দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নে ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩শ’ কোটি টাকা। এছাড়াও পেকুয়ার মগনামা, উজানটিয়া আর রাজাখালীতে প্রায় দেড়শ কোটি টাকার ক্ষতির হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু। রোয়ানুর আঘাতে চাষীদের মজুদকৃত লবণ, মৎস্য ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে, বসতঘর ধস ও গ্রামীণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এ ক্ষতির পরিমাণ প্রায় আড়াই’শ কোটির টাকা বলে ধারণা করছেন।
কক্সবাজারের গ্রামে জোয়ার-ভাটাকক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানান, জেলার ৪টি উপজেলার ২০টি গ্রাম সমুদ্রের জোয়ারের পানিতে একাকার হয়ে আছে। এতে কমপক্ষে পঞ্চাশ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ভেঙে পড়েছে বসতঘর, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এছাড়াও বেড়িবাঁধ বিলিন হওয়ায় এলাকা সাগরে পরিণত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বেড়িবাঁধ দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা না হলে আরও কয়েকদিন এ গ্রামগুলোর মানুষকে পানির সাথে যুদ্ধ করে বাঁচতে হবে। তবে এসব এলাকায় যথেষ্ট পরিমাণ চিড়া, মুড়ি, গুড়, খাবার স্যালাইন এবং মোমবাতি-দিয়াশলাই বিতরণ করা হয়েছে।
/এসএনএইচ/
 আরও পড়তে পারেন: 
জলবাযু পরিবর্তন: দুর্যোগ ঝুঁকিতে খুলনার উপকূলবর্তী ৩ লাখ মানুষ
ধর্ষণ মামলা করায় কিশোরীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ