ডোমারে পাপ্পু হত্যা মামলায় তিন জনের মৃত্যুদণ্ড

নীলফামারীর ডোমারে রাকিব হাসান পাপ্পু নামে এক যুবককে (২২) হত্যার দায়ে তিন ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৫ মে) দুপুরে নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাহবুবুল আলম এই রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন ডোমার উপজেলার বাগডোকরা গ্রামের আব্দুল হাকিম মুহুরীর ছেলে কামরুজ্জামান সেবু (২৮), লালমনিরহাট জেলা সদরের নওদাবাস গ্রামের  আনছার আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৪৩) ও একই জেলা সদরের ছাটহর নারায়ণ গ্রামের মৃত প্রসন্ন কুমার রায়ের ছেলে বুদ্ধদেব রায় বৈদ্য (৪২)। এদের মধ্যে শেষের দু’জন পলাতক রয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ডোমার পৌরসভার চিকনমাটি গ্রামের রেজাউল হক বেলালের ছেলে রাকিব হাসান পাপ্পুকে ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই রাতে কামরুজ্জামান সেবু সুকৌশলে মোবাইল ফোনে ডেকে নেয়। পাপ্পু তার মোটরসাইকেলে করে আসামিদের সঙ্গে দেখা করলে আসামিরা তাকে ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের বুড়ারডোবা এলাকায় নিয়ে গিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। পরে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল নিয়ে তারা পালিয়ে যায়। উল্লেখ্য, কামরুজ্জামান সেবু ছিলেন পাপ্পুর চাচা ডোমার পৌরসভার মেয়র আলহাজ মনছুরুল ইসলাম দানুর চাকুরিচ্যুত গাড়িচালক।

এ ঘটনায় পাপ্পুর অপর চাচা মোখমেদুল হক চানু ওই বছরের ১৮ জুলাই বাদী হয়ে ডোমার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মামলার সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে লালমনিরহাট থেকে তিন আসামিকে গ্রেফতার করে এবং মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে। আসামিরা দীর্ঘদিন জেলহাজতে থাকার সুযোগ নিয়ে সিরাজুল ইসলাম ও বুদ্ধদেব রায় বৈদ্য জামিন নিয়ে বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তবে মামলার প্রধান আসামি কামরুজ্জামান সেবু গ্রেফতারের পর থেকেই জেলহাজতে রয়েছেন।

আজ বুধবার, আদালতে মামলার সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ওই রায় প্রদান করেন আদালত। বিষয়টি নিশ্চিত করেন, ওই আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট আজিজুল হক প্রামাণিক।

মামলায় আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাব চৌধুরী ও এ্যাডভোকেট আতাউর রহমান বিটুল।

/টিএন/