২৮ মে অনুষ্ঠিতব্য পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচনে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। এ ইউনিয়নগুলোতে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৫ জন, ইউপি সদস্য পদে ৩১৯ জন এবং সংরক্ষিত ইউপি সদস্য পদে ৮৮ জন প্রার্থী।
৯টি ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগ সবগুলোতে, বিএনপি সাতটিতে, জাতীয় পার্টি ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি একটি করে ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন ৬টিতে প্রার্থী দিয়েছে। আর স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন ২১ জন। যার মধ্যে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ১৩ জন।
স্থানীয়রা জানান, চেয়ারম্যান পদে দুইয়ের বেশি প্রার্থী হওয়ায় জমজমাট হয়ে উঠেছে নির্বাচনি পরিবেশ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে প্রচারণা। তবে সরকার দলীয় প্রার্থীরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশের কথা বললেও তাদের বিরুদ্ধে হুমকি-ধামকির অভিযোগ রয়েছে অনেক প্রার্থীর।
নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু তাহের আবুল সরদার অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর পক্ষের লোকজন হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। আমার কর্মীদের হাত-পা ভেঙে দেবে বলে শাসানো হচ্ছে। কিন্তু এতে আমি ভীত নই। আশা করছি জনগণই ব্যালটের মাধ্যমে এর জবাব দেবেন।
তবে এই ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা বাবলু কুমার সাহা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এলাকার বেশিরভাগ নারী ও যুবক আমার পক্ষে। ভোটারদের বেশ সাড়া পাচ্ছি। তিনি বলেন, একজন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। কিন্তু তাতে কোনও সমস্যা নেই।
বন্দবিলা ইউনিয়নে সর্বাধিক প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট কাজী কামরুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত তেমন কোনও ঝামেলা হয়নি। সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচন হলে শতভাগ জেতার সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা চার বছর চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলাম। কারো কাছ থেকে কোনও অনৈতিক সুবিধা কখনোই নেইনি।
এই ইউনিয়নে ওয়ার্কার্স পার্টি মনোনীত প্রার্থী সবদুল হোসেন খান বলেন, শাসকদলের সঞ্জিত কুমার নাড়ু, মোতালেবসহ কিছু সন্ত্রাসী বাহিনী প্রধানের লোকজন সাধারণ মানুষের কাছে যাচ্ছে। তাদের ভোটকেন্দ্রে যেতে অনুৎসাহিত করা হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে দাবি করছি, ভোটাররা যেন ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন- সে ব্যবস্থা করতে। কেননা সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নেœ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে চান।
সরকার দলীয় কিংবা বিদ্রোহী বা অন্য দলের প্রার্থীরা সরগরম থাকলেও মিডিয়াকর্মীদের এড়িয়ে চলছেন বিএনপির প্রার্থীরা। ৭টি ইউনিয়নে তাদের প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে ধলগ্রাম ও রায়পুর ইউনিয়নে তিনজন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন বিএনপির।
বাঘারপাড়া বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মশিয়ার রহমান বলেন, ধলগ্রাম ইউনিয়ন ছাড়া তাদের আর কোনও ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। প্রচার-প্রচারণাকালে জহুরপুর ইউনিয়ন ছাড়া অন্য কোথাও তেমন কোনও বাধার মুখে পড়েননি তারা।
তবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা টিএস আইয়ুব বলেন, মিডিয়াকে ওরা (প্রার্থীরা) বিশ্বাস করে না। তারা আমাদের পক্ষে না। এক কথা বললে উল্টোটা প্রচার করায় ভেজাল লাগবে তাই দূরে থাকছেন প্রার্থীরা।
এদিকে নির্বাচনি পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টার কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাচন সমন্বয়কারী কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান। তিনি বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। গত ১২ মে থেকে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্যাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সঙ্গে একটি বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। শিগগির আরেকটি বৈঠকে আমরা বসবো।
পঞ্চম ধাপে যশোরে বাঘারপাড়া ছাড়াও অভয়নগর এবং কেশবপুর উপজেলায় ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে অভয়নগরের ৮টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ২৯ জন ও ইউপি সদস্য পদে ৩৬৪ জন প্রার্থী রয়েছেন। কেশবপুর ইউনিয়নে ১১টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৫০ জন ও ইউপি সদস্য পদে ৪১৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আরও পড়ুন-
শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে ছাত্রের বক্তব্য অসংলগ্ন
গাইবান্ধায় ব্যবসায়ী হত্যার দায় স্বীকার করেছে আইএস
/এফএস/