বৃহস্পতিবার (২৬ মে) দুপুরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এক মৌন মিছিল বের হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এরপর সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তুহিন ত্রিপুরার সভাপতিত্বে ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী পরেশ চাকমার সঞ্চালনায় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘দেশে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। এসব ন্যক্কারজনক ঘটনার পর সরকারের নীতিনির্ধারকরা কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য দিচ্ছেন, যা খুবই দুঃখজনক।’
বক্তারা সম্প্রতি বান্দরবান জেলার থানছি উপজেলার দুর্গমাঞ্চলের গ্রামগুলোতে খাদ্য সংকটে সরকারকে পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান। তারা বলেন, ‘অনাহারে দিন কাটাচ্ছে পাহাড়িরা। বৈরী আবহাওয়ার কারণে জুমের ফসল ঘরে তুলতে না পারায়, এ বছরের মার্চ মাস থেকে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। শুনেছি সরকারের কাছে অনেক চাল মজুদ রয়েছে এবং সেই সঙ্গে জিডিপিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদি মানুষ না বাঁচে, তাহলে এগুলো দিয়ে সরকার কী করবে?’
সমাবেশে আইপিই বিভাগের অনেষ চাকমা, গণিত বিভাগের রুপেল চাকমা, শাবিপ্রবি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, জাতীয় ছাত্রদল শাবিপ্রবি শাখার সভাপতি শাহাদাত হোসাইন, ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সাগরিকা চৌধুরী ও গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী কেলি চাকমাসহ শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
সম্প্রতি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে বৌদ্ধ ভিক্ষু হত্যাসহ সকল বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শাবিপ্রবিতে ওই মৌন মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
গত ১৩ মে রাতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের চাকপাড়া বৌদ্ধ মন্দিরের মংশৈ উ চাক নামে এক বৌদ্ধ ভিক্ষুকে নিজ ধ্যান কক্ষে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
আরও পড়ুন:
প্রতারণা করে বিয়ের অভিযোগ: গোপালগঞ্জে দু’ভাইকে জুতাপেটা, জরিমানা
রাঙামাটিতে চাঁদের গাড়ি উল্টে নিহত ১, প্রতিবাদে বিজিবি ক্যাম্প ভাঙচুর
‘স্কুলের পাঠ্যবইয়ে সাম্প্রদায়িকতা উসকে দেওয়া হয়েছে’
/এসএ/এপিএইচ/