মামলার বিবরণে জানা যায়, ঢাকার মিরপুর এলাকায় একই ভবনে বসবাসের সুযোগে ওই নারী ও বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ উপজেলার মনিতোষ মণ্ডলের (৪২) মধ্যে সখ্যতা গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন মনিতোষ। ওই নারী অন্তঃস্বত্তা হয়ে পড়লে তাকে নিয়ে পিরোজপুরে চলে আসেন মনিতোষ। পরে বাগেরহাটে এনে তাকে জোর করে গর্ভের শিশু নষ্ট করা হয়।
ওই নারী অভিযোগ করেন, মনিতোষের বাসায় বিভিন্ন লোকের যাতায়াত ছিল। মনিতোষ তাকে দিয়ে জোর করে পতিতাবৃত্তি করানোর চেষ্টা করেন। এতে রাজি না হওয়ায় তার শরীরের বিভিন্ন স্থান সিগারেট দিয়ে পুড়িয়ে ও ব্লেড দিয়ে কেটে দেওয়া হয়। বর্তমানে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
ওই নারী আরও বলেন, এক পর্যায়ে তাকে মনিতোষের গ্রামের বাড়ি মোড়লগঞ্জ উপজেলার বহরবুনিয়ায় নিয়ে আসা হয়। সেখানেও ঘরে আটকে রেখে তাকে নির্যাতন করা হয় এবং এ সময়ে মনিতোষ তাকে ভারতে বিক্রি করার উদ্যোগ নেন বলে জানান ওই নারী। অভিযোগকারী নারীর কান্না শুনে স্থানীয় কয়েকজন বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যানকে জানান। পরে গত ১৯ মে ইউপি চেয়ারম্যান পুলিশের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে মোড়লগঞ্জ থানায় নিয়ে আসেন। কিন্তু থানায় মামলা না নেওয়ায় সোমবার তিনি বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে মনিতোষসহ ৪ জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে মোড়লগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসেদুল আলম জানান, ‘ওই নারীকে উদ্ধারের পর নির্যাতনের কোনও আলামত না পাওয়ায় মামলা নেওয়া হয়নি।’
আরও পড়ুন:
আরও ৩ হাজার স্কুল বানাবে সরকার
দেশে মোটরসাইকেল উৎপাদনে শুল্কারোপ, যন্ত্রাংশ আমদানিতে রেয়াত
/জেবি/এসএ/এপিএইচ/